পাকিস্তানে ভাইয়ের হাতে নিহত হয়েছেন এক নারী সংগীতশিল্পী। দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত এই অনার কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে।
পাক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, সানা নামের ওই তরুণী শিল্পীকে শহরের নামকরা পশতু সংগীত কেন্দ্রের কাছে ছুরিকাঘাত করে তার ভাই। হত্যাকাণ্ডের পরপর পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ভাই।
চলতি বছরের মে মাসে সোয়াতে আরেক এক সংগীতশিল্পী অনার কিলিংয়ের শিকার হন। মিনা নামে ওই শিল্পীকে তার স্বামী হত্যা করে।
গান গাওয়া, বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, পরিবারের অমতে বিয়ে, প্রেম এমনকি ধর্মীয় অনুশাসন না মানার কারণে আপনজন হাতে নিহতের শিকার হন পাকিস্তানের নারীরা।
২০১২ সালে পেশোয়ারে হত্যা করা হয়েছিল দেশটির জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী গাজালা জাভেদকে। তার হত্যার পেছনেও জড়িত ছিলেন স্বামী।
টিভি চ্যানেলে লাইভ পারফরম্যান্সের কারণে ভাইদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন আয়মান উদাস নামে আরেক সংগীতশিল্পী।
অনার কিলিং নামের এসব বর্বরোচিত ঘটনার বিচারই হতো না। পরিবারের পক্ষ থেকে সহজে ক্ষমা পেয়ে যেতেন হত্যাকারীরা।
২০১৬ সালে পাক মডেল কান্দিল বেলুচকে হত্যা করে তার ভাইয়েরা। পাকিস্তানের ‘কিম কার্দাশিয়ান’ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন মডেল কান্দিল বেলুচ। খোলামেলা ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কিতও হয়েছিলেন তিনি।
কান্দিল হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস পরে অনার কিলিং বিরোধী আইন পাস করে পাক সরকার। নিহতের পরিবার চাইলেই হত্যাকারীকে ক্ষমা করতে পারবে, এই সুযোগ ওই আইনে রহিত করে দেওয়া হয়।