ধূমপান নিয়ে নোবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের তাণ্ডব, পেটাল শিক্ষককেও

সিনিয়রের সামনে জুনিয়র ছাত্রের প্রকাশ্যে ধূমপানকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) হলে তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এ সময় তারা শিক্ষকদের ওপরও হামলা চালায়।  

ছাত্রলীগের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট গুরুতর আহত হন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য আবাসিক হল বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

শনিবার প্রথম দফায় রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলের ভেতর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জড়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। এর জের ধরে রবিবার রাত ৯টার দিকে আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

রবিবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সফিকুল ইসলাম রবিনের সমর্থকরা ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলে এইচএম ধ্রুব গ্রুপের ওপর চাইনিজ কুড়াল, রামদা, হকিস্টিকসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা হলের অন্তত ২২ কক্ষ ভাঙচুর করে হলের ভেতর থাকা ফ্যান, টিভি, আলমারি, এমনকি বাথরুমের ফিটিংসও ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়।

জানা যায়, এ সময় হলের প্রভোস্ট ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকেও আঘাত করে।

পরে রাত সাড়ে ১১টায় সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমদসহ ২৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ জানান, ছাত্র অরূপ চক্রবর্তী, আতাউল করিম, জুনায়েদ রাব্বিকে হাসপাতালে ভর্তি করে অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদকে সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, জেলা প্রশাসন ঘটনার শুরু থেকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। সোমবার পুলিশ সুপারের অনুরোধে হলে তল্লাশির জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হয়েছে। হলে ব্যাপক ভাঙচুর হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ ভাষা শহীদ সালাম হল থেকে প্রচুর দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক যেকোনো সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্রের সঙ্গে মাদক পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। পুলিশের জন্য এটা আরেক দিক উন্মোচন হলো। পুলিশকে এ ব্যাপারেও কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখনই সহযোগিতা চাইবে পুলিশ সে সহযোগিতা করবে। মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে।

নোয়াখালীর সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবির হোসেন জানান, পুলিশ রবিবার রাত ১২টা থেকে আবদুস সালাম হল ঘিরে রেখে সোমবার বেলা দেড়টায় হলে হলে অভিযান করে। হলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ২২টি চাপাতি , দা ছয়টি, হাতুড়ি দুটি, স্টিলের পাইপ ২০টি, প্লাস্টিক পাইপ ১০টি, লোহার রড ১২০টি, ক্রিকেট স্ট্যান্ড ছয়টি, দেশি টেডা ১৬টি, বিদেশি ১৬ বোতল মদ, গাঁজা, চারটি চাকুসহ তিন শতাধিক দেশি অস্ত্র উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে কয়েকটি মামলা হবে বলে ওসি জানান।

নোবিপ্রবির জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন জানান, হল কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল বন্ধ ঘোষণা করেছেন এবং এ ব্যাপারে এগ্রিকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গাজী মো. মহসীনকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।

সংঘর্ষে আহত ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, বিবদমান দুই গ্রুপের মুখোমুখি সংঘর্ষ থামাতে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এসময় আমাকে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিদার উল আলম বলেন, কোনো অন্যায় আবদার বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারি ও হল ভাংচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবার জরুরি বৈঠক বসে। বৈঠকে ঘটনার তদন্তে একটি ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে একটি মোট দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।      

এ ঘটনার পর ছাত্রলীগর কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করা হলে তাদের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।