দুজনেই ২০ বছরের। একজন ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক পরিচিত। ২টি টেস্ট, ৬৮ ওয়ানডে ও ৩৮টি-টোয়েন্টি মিলে শিকার ২১৫ উইকেট। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিস্ময়জাগানিয়া লেগ স্পিনার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বোলিং র্যাংকিংয়ের ওপরের দিকে নাম। আফগানদের তিন সংস্করণের অধিনায়ক সেই রাশিদ খানকে কে না চেনে?
কিন্তু মাত্র একটি ওয়ানডে খেলা জাহির খান কাল এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে আতঙ্ক ছড়িয়ে গেলেন। রাশিদকে ছাড়িয়ে বিসিবি একাদশের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট নিলেন এই চায়নাম্যান বোলার। যেন ঘোষণা করলেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম টেস্টে তার দিকেও দিতে হবে বাড়তি নজর।
গতকাল ছিল দু’দিনের ম্যাচের শেষ দিন। আফগানিস্তান ৯ উইকেটে ২৮৯ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে দুই লেগ স্পিনারের দাপটে ৪৪.৩ ওভারে ১২৩ রানেই অলআউট বিসিবি একাদশ। এই দলের কারও রান বলার মতো কিছু না। এরপর আফগানদের ইনিংস যখন ৩.৫ ওভারে ১৪ রানে তখন বৃষ্টি নামে। ম্যাচ ড্র। তবে তার আগে বাংলাদেশের ইনিংস দুমড়ে মুচড়ে দেওয়া রাশিদ খানের বোলিং ফিগার ৮-১-২৬-৩, জাহিরের ১১.৩-৩-২৪-৫।
রাশিদকে নিয়ে যে কোনো দলকে একটু আলাদা করে ভাবতে হয়। তাদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে মুশফিকুর রহিম জাহিরের কথা ভেবে আলাদা অনুশীলন করছিলেন। সবার মাথায় আছেন জাহির। এবং ওই বোলার কাল বুঝিয়ে দিলেন, প্রতিপক্ষের যম হতে পারেন তিনিও।
মিডিয়াম পেসারের মতো তার বেশ লম্বা রান আপ। এমনিতে বাঁহাতি লেগ স্পিন বিরল ও প্রতিভার জানান দেওয়া বোলিং। তার ওপর জাহির শেষটায় বলকে দারুণ জোরে ছাড়েন। বৈচিত্র্য আনতে সোজা বলটাও ছাড়েন। সতর্ক না থাকলে সর্বনাশ। বিসিবি একাদশকে নেতৃত্ব দেওয়া নুরুল হাসান সোহান ১৫ রান তুলে তারই শিকার হয়েছেন। তবে সোহান মনে করেন, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের জন্য জাহির হুমকি হতে পারবেন না।
জাহির অবশ্য আছেন দারুণ ধারাবাহিকতায়। শেষ ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে তিনি সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ৫ ম্যাচে শিকার ৩০ উইকেট। আর ফার্স্টক্লাসে মোট ১২ ম্যাচে ৬৪ উইকেট। ইনিংসে ৪ উইকেট সেখানে ৫ বার, ৫ উইকেট ৩ বার। আফগান প্রডিজি বলা হয় তাকে। যুবা নিজেও জানাচ্ছেন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত হয়ে আছেন, ‘বাংলাদেশ দুনিয়ার মধ্যে ৮ নম্বর দল। এখানে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেললাম। ম্যাচে পারফর্ম করতে চেয়েছিলাম। ভালোই করেছি। টেস্টে খেলার জন্য রোমাঞ্চিত আমি।’
আবুধাবির প্রচণ্ড গরমে ১০ দিনের অনুশীলনকে জাহির বলছেন আদর্শ। বাংলাদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নিচ্ছেন সহজে তাই। এমন প্রস্তুতির পর প্র্যাকটিস ম্যাচে ইনিংসে ৫ উইকেট তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে, ‘এই দলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়ও ছিল। এমন একটা প্র্যাকটিস ম্যাচে আমি বৈচিত্র্য দিয়ে বোলিং করতে চেয়েছিলাম। আমি খুশি যে টেস্টের আগে এই ম্যাচে পারফর্ম করতে পেরেছি। প্রস্তুতি ভালো হয়েছে।’
এর মধ্যে ইংলিশ কাউন্টি ল্যাঙ্কাশায়ারে নাম লিখিয়েছেন জাহির। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গত মৌসুমে ছিলেন খুলনা টাইটান্সে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে রাজস্থান রয়্যালস গেলবার নিলামে কিনেছিল তাকে। আফগানদের খেলা দুই টেস্টেই দলে ছিলেন। তবে খেলা হয়নি কোনোটাতে। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা নিশ্চিত বলেই জানা যায়। এখন আফগানিস্তানের তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটের দলেই তার নাম অবধারিতভাবে থাকছে।
কিন্তু এমন লম্বা রান আপে স্পিন করা শিখলেন কীভাবে? শুরুতে মিডিয়াম পেসার ছিলেন নাকি? হাসেন জাহির বলেন, ‘চায়নাম্যানই ছিলাম শুরু থেকে, মিডিয়াম পেসার না। তবে আমি আমার গতিকে খুব ভালো নিয়ন্ত্রণ করতে জানি। আর একজন স্পিনারের জন্য এই গতিটা বেশ ভালো বলতে হবে। জোরের ওপর বল করতেও আমার সমস্যা হয় না। খুব নির্ভারভাবে তা করি।’
তিনি নবীন। তার দলে রাশিদ ও মোহাম্মদ নবীর মতো দুই অভিজ্ঞ স্পিনার আছেন। সরাসরি না বললেও জাহির জানিয়ে যাচ্ছেন টেস্টে স্বাগতিকদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলবে আফগান স্পিন ট্রায়ো, ‘আমার বিশ্বাস আমরা স্পিনে খুব ভালো করব বাংলাদেশের বিপক্ষে। আর লোকে আমাদের খেলা খুব উপভোগ করবে।’