ভারত শাসিত কাশ্মীরের প্রায় সবক’টি রাজনৈতিক দলের নেতারা কারাবন্দি না হয় গৃহবন্দি। এ অবস্থায় সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে বিজেপিপন্থী পঞ্চায়েত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মূলত আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাশ্মীর ইস্যুতে যাতে বিপাকে পড়তে না হয়, সেজন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে তোড়জোড় শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এখনো নজিরবিহীন কারফিউতে গোটা কাশ্মীর উপত্যকা বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। সেখানে বন্ধ রয়েছে টেলিফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেট সেবা।
গত ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা ও রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি সরকার। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠন করা হয়।
তখন জঙ্গি হামলার গুজব ছড়িয়ে আগে থেকেই বাড়তি সেনা এনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জালে মুড়ে ফেলা হয় গোটা কাশ্মীর উপত্যকা। এখনো বহাল রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি।
আনন্দবাজার জানায়, এ অবস্থায় মঙ্গলবার দিল্লিতে জম্মু-কাশ্মীরের পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য, স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি আশ্বাস দেন, আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যেই গোটা উপত্যকা থেকে বাড়তি বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
এদিকে একই দিন দিল্লি থেকে শ্রীনগরে ফিরেই ফের গৃহবন্দি হয়েছেন শহরের মেয়র জুনায়েদ মাট্টু। ৫ আগস্ট তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। এর পর চিকিৎসার জন্য দিল্লি যেতে দেওয়া হয় তাকে।
সোমবার দিল্লিতে এক সাক্ষাৎকারে কাশ্মীরে ধরপাকড় এবং রাজনীতিকদের আটক করার নিন্দা জানান তিনি। বলেন, উপত্যকা স্বাভাবিক হওয়ার আশা অবাস্তব।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বাড়তি বাহিনী সরিয়ে উপত্যকায় ছন্দ ফেরানোর আশা করলেও সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যরা কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন বলে জানান। বৈঠকে তাদের বড় অংশই নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানান।
প্রশ্ন উঠেছে প্রায় বিচ্ছিন্ন জম্মু-কাশ্মীরের দুই ডজন মানুষ কীভাবে একসঙ্গে দিল্লি পৌঁছে গেলেন? এই বৈঠকের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগ নেই বলে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করলেও, অনেকে বলেছেন সবই পরিকল্পিত। বেছে বেছে সরকারপন্থী পঞ্চায়েত সদস্যদের এনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে সেই বার্তা দিতে চেয়েছে কেন্দ্র।
বৈঠকে অমিত শাহ ইঙ্গিত দেন, এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই উপত্যকা থেকে বাড়তি বাহিনী সরিয়ে ফেলতে চায় দিল্লি।
কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, সেনা সরানো শুরু হলেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে উপত্যকা। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় সে ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এখনই বাড়তি বাহিনী সরানোর সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে মন্ত্রণালয়।