এবার রওশনপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারপারসন রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন যারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জীবিত থাকাকালে আমাকে দলের চেয়ারম্যান করেন। তার সেই সিদ্ধান্তে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সম্মতি ছিলো।

তিনি বলেন, দলের ২৫ সাংসদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৩ সাংসদের তাকে বিরোধী দলীয় নেতা করার সিদ্ধান্তে সম্মতি আছে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।

জাতীয় পার্টিতে দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদের সঙ্গে এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদেরর দ্বন্দ্ব অনেক পুরোনো। দলীয় পদ নিয়ে উভয়ের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর আগেই দলের ভেতর ও বাইরে আশঙ্কা করা হয়েছিল তার অবর্তমানে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সংকট দেখা দেবে। 

এরশাদের জীবদ্দশায় দলের ভেতরকার নানা দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কয়েক গ্রুপে ভাগ হয়ে পড়বেন দলের শীর্ষ নেতারা। কেউ কারও নেতৃত্ব মানবেন না। বিশেষ করে এরশাদের স্ত্রী, দলের কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ এবং এরশাদের ভাই দলের চেয়ারম্যান (বেঁচে থাকতেই এরশাদ ঘোষিত) জিএম কাদেরের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ কীভাবে সমাধান হবে এ নিয়ে চিন্তা ছিল সবচেয়ে বেশি। এরশাদের মৃত্যুর ১ মাস ২০ দিনের মাথায় এসব আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। 

তিনি গঠনতন্ত্রের ধারা তুলে ধরে বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে বলা আছে, যদি চেয়ারম্যানের মৃত্যু হয়, তাহলে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ১ চেয়ারম্যান হবেন। এখানে রওশন এরশাদ সিনিয়র। এটা ২০ এর উপধারা ২ (ক)-এ আছে। সুতরাং আজকে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করছি, রওশন এরশাদ দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।’

তবে পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৬ সালের সর্বশেষ সংশোধিত গঠনতন্ত্রের ২২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান পার্লামেন্টারি পার্টির আস্থাভাজন ব্যক্তিদের মধ্যে পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা নির্বাচিত হবেন। পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা যিনি হবেন তিনিই আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা হবেন, এটাই স্বাভাবিক। এখানে পার্লামেন্টারি পার্টির কোনো মিটিং (সভা) করার বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। চেয়ারম্যান যাকে আস্থাভাজন বলে মনে করবেন তিনিই হবেন। আমি আমার প্রতি আস্থা কাদের আছে তা জানার জন্য সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেছি। ১৫ জন আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন। আমি শুধু অনুভব করিনি। আমি হাতে পেয়েছি যে ১৫ জন আমার প্রতি আস্থা স্থাপন করেছেন। তারা বলেছেন যে, গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে আমরা বিরোধী দলীয় নেতা দেখতে চাই। তখনই আমি এই পত্রটি স্পিকারের কাছে পাঠিয়েছি। এটা গঠনতন্ত্র মোতাবেক হয়েছে। সেখানে কোথাও পার্লামেন্টারি পার্টির সভা করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়নি।

জি এম কাদের বলেন, আগেও এইচ এম এরশাদ এ পদ্ধতিতে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা, বিরোধী দলের উপনেতা নির্বাচিত করে গেছেন। কোনো বিষয়েই পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হওয়া প্রশ্নে কাদের বলেন, গঠনতন্ত্রের ২০ ধারা (ক) বলা আছে, চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির যেকোনো পদে যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ, অপসারণ বা যেকোনো ব্যক্তিকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করতে পারবেন।

কাদের বলেন, এরশাদ একটি সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি বলে গেছেন, আমার অবর্তমানে আমার ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি অসুস্থ থাকায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনেরও নির্দেশ দেন। ওনার মৃত্যুর পূর্বে তিনি এ দায়িত্ব দেন। তাঁর মৃত্যুর পর কী হবে সে হিসেবে আমাকে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ঘোষণা করেন।

চেয়ারম্যান পদ নিয়ে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে সেই বিষয়ে কাদের গঠনতন্ত্রের ৩৮ ধারা তুলে ধরেন। যেখানে কোনো সিদ্ধান্তের অস্পষ্টতা থাকলে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানান কাদের। 

তিনি বলেন, এরশাদের মৃত্যুর পর গত ২২ জুন, ৪ জুলাই ও ১৭ আগস্ট এই তিন দিন প্রেসিডিয়ামের তিনটি সভা হয়। প্রথম সভায় তাকে সর্বসম্মতভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে অভিনন্দন জানানো হয় বলে জানান কাদের। সর্বশেষ ১৭ আগস্ট তাকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় বলেও জানান কাদের।