কাশ্মীর থেকে কড়াকড়ি তুলে নিতে বিশ্বব্যাপী অ্যামনেস্টির প্রচারণা

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক মাস ধরে কড়াকড়িতে মানবাধিকার লঙ্ঘনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, “কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করে এভাবে কাশ্মীরকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখায় সেখানকার মানুষের নাগরিক অধিকারের ওপর আঘাতকে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি জানায়, “কাশ্মীরে এই অনির্দিষ্ট যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা তুলে নিতে অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া বিশ্বব্যাপী একটি প্রচারণা শুরু করেছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া হ্যাশট্যাগ লেট কাশ্মীর স্পিক নামে এই প্রচারণার মাধ্যমে অঞ্চলটি থেকে অবিলম্বে কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার আহ্বান করা হবে।”   

আগস্টের শুরুতে সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নিয়ে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে বিজেপি সরকার। তার আগের রাত থেকে রাজ্যটিতে আরোপ করা হয় কঠোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাহসহ গ্রেপ্তার করা হয় ৪০০ এরও অধিক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজ্যটিতে।

জম্মু-কাশ্মীরে কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হলেও বিশ্বের সঙ্গে এখনো অনেকটাই বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটি। সংবাদমাধ্যমসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে।

অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়ার প্রধান আকার প্যাটেল বলেন, “কাশ্মীরে এই কড়াকড়ি আরোপ এখন এক মাসেরও বেশি হয়ে গেছে এবং ভারত সরকার এটি আর দীর্ঘায়িত করতে পারে না কারণ এতে কাশ্মীরিদের দৈনন্দিন জীবন, তাদের আবেগ এবং মানসিক স্বস্তি, চিকিৎসা এবং জরুরি সেবা ও প্রয়োজনীয়তাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।”

তিনি জানান, জম্মুর অনেক জেলায় কড়াকড়ি শিথিল করা হলেও কাশ্মীরের অধিকাংশ অঞ্চল এখনো কঠোর কড়াকড়ি বিদ্যমান। পুরো জনগোষ্ঠীকে মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের অন্ধকার যুগে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে আহ্বান জানা তিনি।