খানসামায় ছাত্রলীগের এক কমিটি ১৫ বছর, নতুন কমিটি চায় পদপ্রত্যাশীরা

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের এক বছর মেয়াদি কমিটি গত ১৫ বছর আগে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। মেয়াদ শেষ করা কমিটির বেশির ভাগ নেতা হারিয়েছেন ছাত্রত্ব। অনেকেই যোগ দিয়েছেন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ বা আওয়ামী লীগে। পুরাতন কমিটির বেশির ভাগ নেতাকর্মীদের নেই তেমন কোন কার্যক্রমও। এমনকি ছাত্রলীগের কোন কার্যক্রমেও উপস্থিতি নেই এসব নেতাদের। দু’একজন নেতা ছাত্রলীগের হাল ধরে থাকলেও বাকিদের কোন খোঁজ নেই।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে খানসামা উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এতে তৎকালীন খানসামা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী এরশাদ জামান সভাপতি এবং পাকেরহাট সরকারি কলেজের (তৎকালিন ডিগ্রি কলেজ) রেজাউল করিম রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এক বছর মেয়াদি সেই কমিটি অতিক্রম করেছে ১৫ বছর। বিগত ২০১০ সালে খানসামা উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হওয়ার জোর তৎবির করা হলেও কমিটি হয়নি। এরপর এভাবেই কেটে যায় আরো কয়েক বছর। তবে বর্তমানে নতুন কমিটির জন্য খানসামা উপজেলা ছাত্রলীগের অনেক পদপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাপ করছেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী এবং খানসামা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাকেশ গুহ বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর এবং শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ করি। ছাত্রলীগের দুর্দিনে পাশে ছিলাম। সামনের দিনগুলোতেও ছাত্রলীগের সঙ্গে আছি এবং থাকব। আশা করি দায়িত্বশীলরা যাদেরকে ভালো মনে করবেন তারাই উপজেলা ছাত্রলীগের পদ পাবেন।’

ছাত্রলীগের আরেক পদপ্রত্যাশী মো. মোছাব্বের আলম বলেন, ‘আমি জন্মগতভাবেই রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে। ছাত্রলীগে রাজনীতির সাথে এক যুগের বেশি সময় ধরে আছি। আশা করি খানসামায় মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত এবং ত্যাগী নেতারাই ছাত্রলীগের হাল ধরবে।’

ছাত্রলীগ নেতা লিটন রহমান লিটু বলেন, ‘আমার বাপ দাদারা আওয়ামী লীগ করে আসছে। আমিও দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত। ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান অর্থ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথেও আমি ছিলাম, আছি থাকব। আশা করি ত্যাগী নেতারাই পদে আসবে।

তবে এতদিনেও কমিটি না হওয়ার বিষয়ে খানসামা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম ছাত্রলীগের কমিটি দিতে। কিন্তু ২০১৪ সালে আন্দোলন এবং তারপর জাতীয় নির্বাচনের জন্য ছাত্রলীগের কমিটি হয়নি। তবে বর্তমানে একটি সফল সম্মেলন ও এমপি মহোদয় এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে পরামর্শ ও তারা সময় দিলেই কমিটি হবে।’

কমিটির বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ইমতিয়াজ ইনান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলায় যেসব মেয়াদ শেষ হওয়া ছাত্রলীগের কমিটি আছে আমরা সেগুলোকে পূর্নগঠন করার চেষ্টা করি। এজন্য আমি স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল লোকদের সাথে কথাও বলেছি। খানসামা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক বাদে সবাই পদত্যাগ করেছে।’

ছাত্রলীগের প্রার্থীতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‌‘শিক্ষিত, মার্জিত, মাদকমুক্ত, রানিং ছাত্র, সংগঠনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছেলেকেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে আনা হবে।’

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন বলেন, ‘ছাত্রলীগ হলো আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গ সংগঠন। ছাত্রলীগে তারা নিজেদের মত করেই কমিটি করবে। তবে আমরাও দেখব ছাত্রলীগে যেনো কোনভাবেই রাজাকারের সন্তান, জামায়াত-বিএনপির হাইব্রিড ছেলে পদপদবী না পায়।’