ব্রেক্সিট কি পেছাবে

চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসা (ব্রেক্সিট) নিয়ে এখনো কোনো আইন পাস হয়নি দেশটির পার্লামেন্টে। নিজ অবস্থানে অনড় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এখনো ব্রেক্সিট পেছানোর কোনো অনুরোধ করেননি ইইউ নেতাদের। জনসন যদি বর্তমান সময়সীমা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে না পারেন, তাহলে এ বিষয়ে অবশ্যই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে ইউরোপীয় কাউন্সিলের (ইসি) ২৭ জাতীয় নেতার। এমন বাস্তবতায় ইউরোপ ব্রেক্সিটে তৃতীয়বারের মতো দেরি মানবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে এএফপি।

ইইউ কি দেরি মানবে : ইইউর দপ্তর ব্রাসেলস ব্রেক্সিট নাটক দেখে ক্লান্ত হলেও চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য অপবাদ নিতে চায় না তারা। ইইউর বেশির ভাগ কর্মকর্তা এবং পর্যবেক্ষকদের আশা, যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন বা ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোট পরিষ্কার হয়ে গেলে ২৭ দেশ আরেকবার ব্রেক্সিট পেছাতে সম্মত হবে। ইউরোপীয় একজন কূটনীতিক এএফপিকে বলেন, ‘দেরির জন্য দেরি? হবে না। একই বৃত্তে ঘুরতে থাকলে হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মতো নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা দেরির বিষয়টি যাচাই করতে পারি। এটা সর্বসম্মতিক্রমে হতে হবে। তবে, হ্যাঁ, আমি মনে করি, এটা (দেরি) অনুমোদন পাবে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মের সময় এপ্রিলে যুক্তরাজ্য সর্বশেষবার ইইউর কাছে ব্রেক্সিট পেছানোর অনুরোধ করেছিল। সে সময় ব্রেক্সিট পেছাতে অনীহার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। পরবর্তী সময়ে মিত্রদের সঙ্গে একমত হয়ে প্যারিস ব্রেক্সিটের সময় অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত দিতে সম্মত হয়। তবে ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, আরেকটি দেরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না। এমেলি ডি মন্তচালিন বলেন, ‘যখন আমি শুনি ব্রিটিশরা বলছে, “আমাদের আরও তিন মাস সময় দিন এবং আমরা সংকটের সমাধান করব”, আমরা দেখি যে আরও ছয় মাস কিংবা পরবর্তী আরও তিন মাস সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।’ ফ্রান্সের রেডিও ক্লাসিককে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে তাদের (যুক্তরাজ্য) বলতে পারতে হবে যে, তারা কী চায়।’

যুক্তরাজ্য কি দেরির আবেদন করবে : জনসন জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি ব্রেক্সিট পেছাতে চান না এবং যেকোনো মূল্যে তিনি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে ইইউ থেকে বের করে আনবেন। তবে যুক্তরাজ্যের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে না-ও থাকতে পারে। যুক্তরাজ্যের এমপিরা পার্লামেন্টের এজেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকানোর আইন পাসের দিকে এগোতে চাইছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনের আগেই সাধারণ নির্বাচন দাবি করেছেন। এ বিষয়ে ব্রাসেলসকেন্দ্রিক রবার্ট শুম্যান ফাউন্ডেশনের এরিক মরিস এএফপিকে বলেন, ‘১৫ অক্টোবর নির্বাচন হলে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সম্মেলনে।’ তিনি বলেন, সে সময় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অবস্থা দেখে বোঝা যাবে, ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের জন্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর কত বড় সমর্থন আছে।