আমাজনে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত ঘটে, সেটি শুরু হয় আবহাওয়ার উৎকৃষ্ট উদাহরণমালায়। এই আবহাওয়া পশ্চিম দিক থেকে ভ্রমণ করে আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে পূর্ব দিকে যায়; সেখানে আর্দ্র বাতাস বনের নিম্নাঞ্চল পার হয়ে আন্দিস পর্বতমালার কাছে পৌঁছে। একই সময়ে প্রতিদিনের বাষ্পত্যাগে আমাজনিয়ান রেইনফরেস্টের গাছগুলো বিশাল পরিমাণ আর্দ্র বাতাস আকাশে ত্যাগ করে। এই বাতাস আন্দেজের দিকে চলে যায়। বাতাস পর্বতমালার দুই দিকের পর্বতগুলোর মাঝখানের অংশ চেপে ধরে। ফলে মেঘ হয় ও একই বিন্দুতে এসে মেঘমালা মিলিত হয়। এরপর ঘন হয়ে বৃষ্টিতে রূপ নিয়ে আন্দিস পর্বতমালায় আঘাত করে। ফাঁদে পড়ে বনটির বাতাস সরাসরি আমাজন নদী ও উপ-নদীগুলোতে নামে। এভাবেই পৃথিবী নামের এই গ্রহের প্রায় ২০ ভাগ স্বচ্ছ পানি আমাজন নদী দিয়ে সাগরগুলোতে পৌঁছে। আর বিরাট বৃষ্টিপাত আমাজনিয়ান বৃষ্টিময় বনগুলোতে সুবিধা এনে দেয়। গাছ, লতাগুল্ম ও প্রাণীদের বছরের সবচেয়ে বেশি সময়ে দরকারি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আর্দ্রতা এনে দেয়। বনগুলো আর্দ্রতা সালোক-সংশ্লেষণে ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করে। এরপর তারা আবার পানির বাষ্প আকাশে ছুঁড়ে দেয়। এ প্রক্রিয়াতেই আমাজন বনমালাটিতে অরণ্যবিন্যাস ঘটে ও মহাদেশটির পশ্চিম অংশে সেভাবেই বনটি বাড়ে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন, এই আর্দ্রতার চক্র পরিচালনা এবং বনটিকে স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য; পৃথিবীর টিকে থাকার স্বার্থে আমাজনের বনমালার ৯০ ভাগ এখন যেভাবে অক্ষত আছে, সেভাবেই থাকতে হবে।