গল্প, গাথাই সত্য হলো!

ভয়াল পিরানহা আদতে নিরীহ ছো্ট্ট এক মাছ। আমাজনে তাদের বাড়ি, কুখ্যাতি দুনিয়াজুড়ে। এখন বিপন্ন প্রাণের তালিকায় আছে আইইউসিএনে। লিখেছেন ওমর শাহেদ

দক্ষিণ জার্মানিতে ১৫০ মিলিয়ন বা ১৫শ কোটি বছর আগের মাছের ফসিল পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটি ড. ডেভিড বেলউড, জার্মানির ইয়োগা মোজিউম আইশন্যাট জাদুঘরের মার্টিনা কোব লিবাটসহ আন্তর্জাতিক দলের বিজ্ঞানীরা। মাছটির আধুনিককালের পিরানহার মতো দাঁতের সারি আছে। ওই সময়ে ডায়নোসররা পৃথিবীতে ছিল। ফসিলটির সুচালো, ছোট ও মোটা মাংসল দাঁত, অন্য মাছের মতো লেজও আছে।

সেটির কাছে আরেকটি মাছের ফসিল পাওয়া গেছে মাছটির আক্রমণের শিকার। সেটির লেজ খেয়েছে মাছটি। বিজ্ঞানীরা বলেন, সেই আমল থেকে আগ্রাসী ও শক্তিশালী দাঁতের অধিকারী পিরানহা। তবে অভিযোজনের অন্যতম কীর্তি তারা দেখেছেন, লেজ খেলেও মাছটির লেজ আবার জন্মেছে।

তারা যেখানে পিরানহার ফসিল পেয়েছেন সেটি এককালে সাগর ছিল। অথচ এখন ওরা দুনিয়ার অন্য প্রান্তে দক্ষিণ আমেরিকার স্বাদুপানিতে ২০ প্রজাতি থাকে।

পিরানহার খুব ধারালো দাঁত  ও শক্তিশালী চোয়াল আছে। ২০১২ সালের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা বলে, বিশ্বের জীবিত যেকোনো মাছের চেয়ে শক্তিশালী কামড় এই মাছদের।

ক্ষুধা লাগলে প্রায় যেকোনো কিছুই তারা খেয়ে ফেলতে পারে। মারাত্মক আক্রমণ করতে পারে খাবার না পেয়ে মানুষকে।

তবে পিরানহার যে সর্বগ্রাসী আচরণের কথা বলা হয়, সেটির প্রায় পুরোটিই রূপকথা। কয়েক জাতের পিরানহা মাংসের চেয়ে বীজ, সবজি (আসলে পানিতে থাকা লতাগুল্ম) বেশি খায়। 

স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিজ্ঞানীদের আরেক গবেষণা বলে, পিরানহা সর্বভুক হলেও প্রধানত মাছ, লতাগুল্ম ও পোকামাকড় খায়।

যখন মাংস খায়, পিরানহার শত কোটি বছরের প্রবণতায় তারা মরতে থাকা কোনো প্রাণীকে আক্রমণ করে।  

খাবার হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে পিরানহা জনপ্রিয়। তাদের স্বাদ খুব ভালো বলে মন্তব্য করেছেন কেউ। অন্যদের কাছে হাড় আছে এমন সাদা মাছের মতো স্বাদ। কারও মতে মাছের গন্ধ এর মধ্যে খুব বেশি।

প্রাথমিকভাবে বিশ্বের সব প্রাণীদের মতো তারাও প্রাথমিক আক্রমণের শিকার হলে আত্মরক্ষার আচরণ করে।

শিকারের জন্য নয়; অন্য শিকারজীবীদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে ওরা বিরাট দলে ঘোরে।

তাদের খায় ডলফিন, কাইম্যান এবং বড় মাছেরা। ফলে খাবার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে ঝাঁকের মতো করে চলে। কেমন আক্রমণের শিকার হতে পারে সেই বোধ থেকে তারা ঝাঁক তৈরি করে এবং পোনা জন্ম দিতে পারে এমন মা মাছ ঝাঁকের মাঝে থাকে।

বেশি পানিতে তারা অল্প ঝাঁক নিয়ে চলে। কারণ সেখানে আক্রমণকারীদের এড়ানোর জায়গা বেশি থাকে। আক্রমণের ঝুঁকিও কম থাকে।

পানির উচ্চতা যেখানে কম থাকে, বন্যার পানি পিরানহাকে ছোট ছোট খাল বা হ্রদে নিয়ে আসে, তখন সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ৫০টি মাছ মিলেও একটি ঝাঁক তৈরি করে।

ওরা এখন অ্যাকুরিয়ামের মাছও হয়েছে।

পিরানহা আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন ফর নেচার)’র বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় আছে।

সূত্র : বিবিসি