লাল-পেটের পিরানহাদের নিচের অংশ থেকে চিবুক পর্যন্ত লালচে; গাল থেকে পেট পর্যন্তও তাই। মাথা ও শরীর সূর্যের সরাসরি আলো পায় না বলে ছাইরঙা। তাদের দুই পাশ ছোট ছোট ফোঁটায় উজ্জ্বল সোনালি আঁশের। থাকে গোল করে, ঘ্রাণের শক্তি তুলনামূলকভাবে কম। মাথা শক্তিশালী মাংসপেশিতে পূর্ণ; সেটিতে ছোট মজবুত চোয়াল আছে। সেগুলো তিনমুখী, খুরের মতো দাঁত দিয়ে ভর্তি; একেবারে সাজানো। এই নকশা পিরানহাকে অসম্ভব গতি ও নিঃশেষ করা শক্তি দিয়ে কামড়াতে দেয়। পুরু, মাংসল ঠোঁটের আড়ালে থাকে বলে দাঁতগুলো সাধারণত দেখা যায় না।
কিংবদন্তির এই নায়করা পুরো জীবনে মাত্র ইঞ্চিখানেকের বড় (৩০.৫ সেন্টিমিটার) হতে পারে। ওজনেও তেমন; খুব বেশি হলে ৪ পাউন্ড (১.৮১ কিলোগ্রাম) মাত্র। অ্যামাজন নদীমালার নিচের অংশে থাকে লাল পেটের পিরানহারা। বিরাট স্বাদুপানির এই এলাকায় তারা কোনো একটি জায়গায় বাস করে বা নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। বন্য এলাকায় বেশি থাকে, যেখানে বড় মাছের লেজের বাড়ি তাদের মেরে ফেলে না। তারা সব ধরণের ছোট মাছ, পোকামাকড়, জলজ উদ্ভিদ, প্রাণী, মাঝে মাঝে লতাগুল্ম, ডুমুর গাছের বা অন্য গাছের পাকা ফল খায়। ২০ বা আরও বেশি সংখ্যায় সাধারণত ঘুরে বেড়ায়। এই প্রজাতির পিরানহা বাসা তৈরি করে। পাহাড়ের নিচের দিকের ফাটলে পুরুষরা গোলাকার থাকার জায়গা বানায়, সেখানে মা পিরানহা ডিম রাখে। ডিমগুলো গুচ্ছাকারে জলজ উদ্ভিদের নিচে ডোবানো থাকে। আমাজনে গরমকালে তারা বিপুল ডিম দেয় বলে বিজ্ঞানীদের অনুমান। দিনের বেলায় ছোট পিরানহাগুলো খাবারের খোঁজে বেড়ায়, বড়গুলো ভোরে ও গোধূলিতে সেই কাজে বের হয়। আমাজনের প্রাণ ও পরিবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মাছগুলো ১০ বছর কী তারও বেশি বাঁচে।
(স্মিথসোনিয়াম্যাগডটকম থেকে)