দীর্ঘতম মালবাহী ট্রেন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মরুভূমি সাহারা। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যে পড়েছে এই মরুভূমি। এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে আধুনিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম ট্রেন। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ মৌরিতানিয়ান এক্সপ্রেস নামের এই ট্রেনটিতে চড়লে এক টিকিটেই ঘুরে বেড়ানো যাবে গোটা সাহারা।

১৯৬৩ সালে মৌরিতানিয়ার দ্বিতীয় বন্দর শহর নুয়াধিবৌর লৌহ খনি থেকে লোহা নিয়ে সাহারা পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে এই ট্রেনটির যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ট্রেনটিতে তিনটি পেট্রোলচালিত লোকোমোটিভ থাকলেও ক্রমে এর সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু রাজনৈতিক ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০০৯ সালের দিকে ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি বছর জানুয়ারিতে আবারও ফের চালু করা হয়। প্রতিদিন ২০০টির বেশি বগি নিয়ে ট্রেনটি চলাচল করে। ট্রেনভর্তি থাকা লোহা বিভিন্ন স্টেশনে নামিয়ে দেওয়াই এর লক্ষ্য। এরই মাঝে সাহারার স্থানীয় আদিবাসীরা চলন্ত মৌরিতানিয়া এক্সপ্রেসে উঠে যায় কাক্সিক্ষত স্থানে যাওয়ার জন্য। এজন্য অবশ্য যাত্রীদের কোনো টিকিট বা অর্থ দিতে হয় না। কিন্তু সাহারার তীব্র গরমের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের উপযোগী নয় ট্রেনটি। কারণ ৭০৪ কিলোমিটার রাস্তায় এই ট্রেনে করে যেতে সময় লাগে প্রায় ২০ ঘণ্টা। তাই তো একে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ মালবাহী ট্রেন বলা হয়।

ট্রেনটি ছাড়ার ১২ ঘণ্টা পর সাহারার মধ্যবর্তী শহরে চৌমে থামে। এই শহরে ট্রেনটি থেকে যাত্রী ছাড়াও কয়েকটি মালবাহী বগি রেখে যাওয়া হয়। অন্য স্টেশনে ট্রেনটি অল্প সময়ের জন্য থামলেও চৌমে এক ঘণ্টার বেশি সময় থাকে মৌরিতানিয়া এক্সপ্রেস। এছাড়াও পুরো পথে আছে বেশ কয়েকটি পুলিশি তল্লাশিচৌকি। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এই তল্লাশিচৌকিগুলোতে ট্রেন না থামিয়ে গতি মন্থর করে দেওয়া হয়। এই ধীরগতির মধ্যে পুলিশ ট্রেনে ওঠে এবং তল্লাশি চালিয়ে আবার নেমে যায়। মাইকেল হুনিয়েউইজ নামের এক আলোকচিত্রী এই ট্রেনটিকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, ট্রেনটিতে প্রতিদিন ১৬ হাজার টন লোহা নিয়ে যাওয়া হয়। মৌরিতানিয়ার অনেক অঞ্চলের মানুষের জীবিকা পুরোপুরি নির্ভর করে ট্রেনটি থেকে আসা লোহা থেকে। এক-একটি বগিতে অন্তত ৮৪ টন লোহা ধারণ করে।