রাতে রিজভীর পোস্টার সাঁটানো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রাত জেগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে পোস্টার সাঁটিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাত জেগে পোস্টার সাঁটানোর এ ঘটনাকে মসকরা হেসেব অভিহিত করেছেন কেউ কেউ।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেউ কেউ ফেইসবুকে এ নিয়ে স্টাটাস দিয়েছেন। তাদেই একজন ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা জাকির হোসেন।

তিনি এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বিএনপি কি কর্মী শূণ্য...। পোস্টার লাগাতে নেতাকে নামতে হবে। তাও আবার রাতের বেলা!! মসকারা ছাড়া কিছু নয়!!!।’

আরো কেউ কেউ এ ঘটনাকে মসকরা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান ফেসবুকে লেখেন-

'একজন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

ছাত্রদলের সর্বশেষ নির্বাচিত সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের সাবেক নির্বাচিত ভিপি। বত‍র্মানে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, পাশাপাশি বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন। বেশিরভাগ সময়ে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বটাও পালন করতে হয় উনাকে।

ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত জ্ঞানী, মেধাবী, সদালাপী এবং সৃজনশীল মনের একজন সাহিত্যপ্রেমী মানুষ। সারাটা দিন উনার কাটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কর্মকাণ্ড তদারকি এবং পরিচালনায়।

পরিবার থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন বললেই চলে। কিন্তু দেশনেত্রীর প্রতি আবেগ, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যবোধ উনার থেকে আমাদের অনেকেরই শেখার আছে। গত রাত ২টায় উত্তরায় নিজ হাতে দেশনেত্রীর মুক্তির পোস্টার দেয়ালে সেঁটে উনি আবারো প্রমান করলেন, যত বড় পদেই আসীন আমরা থাকি না কেন, মাতৃতূল্য দেশনেত্রীর জন্য আমরা যে কোন কাজ করতে এক সেকেন্ডের জন্যেও দ্বিধাবোধ করি না, করা উচিত না। কোন কাজ কারো জন্য রেখে না দিয়ে নিজেই করে ফেলা উচিত, দলীয় কোন কর্মকান্ডকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই, এবং "এই কাজ আমি কেন করবো" মেন্টালিটি বর্জনীয়।

আসুন সবাই যে যার অবস্থান থেকে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে শরিক হই। ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আল্লাহ আপনার সহায় হউন। আপনাদের নেতৃত্বেই মুক্ত হবে দেশনেত্রী, ফিরে পাবে বাংলাদেশ, গুম হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র।'

বুধবার রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ লেখা পোস্টার রাজধানীর উত্তরা এলাকার বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার দেয়ালে দেয়ালে নিজ হাতে সাঁটান রুহুল কবির রিজভী।

এ সময় রিজভীর সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিজভী ভাই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার রাত ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এই এলাকার অলিগলি ঘুরে দেয়ালে দেয়ালে 'খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই' লেখা পোস্টার সাঁটিয়েছেন।’

রাত জেগে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার বিচারে কারাবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যে মিথ্যা মামলায় অন্যরা জামিন পেয়েছেন, সেই একই মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তার জামিনের আবেদন করা হলে সরকার তাতে বাধা সৃষ্টি করছে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে কারাগারে আটকে রেখে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। সে জন্য শাসকগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতেই হবে। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে সুচিকিৎসার সুযোগসহ নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’

এর আগে বিভিন্ন সময় রুহুল কবির রিজভী রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঝটিকা মিছিল করেছেন। অসুস্থতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। দলের দুঃসময়ে তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা রয়েছে।