ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ওঠা-নামা

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল জংশন দিয়ে চলাচলকারী হাজারো যাত্রী প্রতিদিন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ওঠা-নামা করছেন। স্টেশনটির দুই ও তিন নম্বর লাইন ব্রডগেজের সঙ্গে মিটারগেজ সংযুক্ত। এক নম্বর লাইনটি শুধু মিটারগেজ। সে কারণে ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য যেসব ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ট্রেন দুই নম্বর লাইনে থামে তাতে যাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে ওঠা-নামা করতে হয়। ব্রডগেজ লাইনের তুলনায় ট্রেন অনেক উঁচু। যাত্রীরা যখন ট্রেনে ওঠেন তখন তাদের মাথার ওপরে থাকে হাতল। এতে পুরুষ যাত্রীদের পক্ষেই ট্রেনে ওঠা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে, সেখানে নারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে তা আরও দুঃসাধ্য। এ পরিস্থিতিতে প্রতিনিয়তই যাত্রীরা হাত ফসকে মাটিতে পড়ে জখম হচ্ছেন। একইভাবে ট্রেন থেকে নামতে গেলেও বৃদ্ধ, অসুস্থ, নারী ও শিশুরা ঝুঁকির মুখে থাকছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে স্টেশন থেকে জয়দেবপুরকে রেল জংশনে উন্নীত করা হলেও বিন্দুমাত্র বাড়েনি যাত্রীসেবার মান। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই জংশন দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও এতে উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া পড়েনি বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

জয়দেবপুর রেল জংশন দিয়ে ট্রেনে যাতায়াতকারী লিয়াকত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যবসার কাজে প্রায় প্রতিদিনই ঢাকায় যাতায়াত করি। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। নারীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।’

শহরের হাড়িনাল এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সপ্তাহের পাঁচ দিন তাকে ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের উচ্চতা প্রায় ৫-৬ ফুট। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। এছাড়া বর্ষাকালে ট্রেনে উঠতে গেলে প্রায় সময়ই বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। কিন্তু কী আর করা, বিকল্প না থাকায় এতসব কিছুর পরও ট্রেনের ওপরই ভরসা রাখতে হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়দেবপুর জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই জংশন দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনসহ দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে কমবেশি ৭২টি ট্রেন যাতায়াত করে থাকে।  লাইনের তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই দুটি প্ল্যাটফর্মই দক্ষিণের দিকে সম্প্রসারণ করা জরুরি। পাশাপাশি আরও একটি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করাও প্রয়োজন।’ রেল জংশনের ১নং মিটারগেজ লাইনটি ব্রডগেজ সংযোজনসহ স্টেশনের পাসিং লাইনের সংখ্যা আরও বাড়ানো জরুরি উল্লেখ করে স্টেশন মাস্টার বলেন, ‘রেল জংশনে লোকবলের সংকট থাকায় প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশনের জন্য অন্তত আরেকটি অবকাঠামো নির্মাণ করা দরকার।