টিভি শো ‘দ্য ভিউ’তে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ‘সাইবার সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেন দুই অতিথি মেগান ম্যাককেইন ও জয় বেহার। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন পামেলা এন্ডারসন।
‘বেওয়াচ’-খ্যাত এই অভিনেত্রী অ্যাসাঞ্জের বন্ধু হিসেবে পরিচিতি। তিনি লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকাকালে অনেকবার অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর ব্রিটিশ কারাগারেও দেখতে যান।
শুক্রবার একটি চ্যানেলে প্রচারিত ‘দ্য ভিউ’তে দুই অতিথি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের কড়া সমালোচনা করেন।
এই সময় মেগান ম্যাককেইন বলেন, “তিনি একজন সাইবার সন্ত্রাসী। আমি তার পক্ষে দাঁড়াবো না।”
মেগানের মতে, অ্যাসাঞ্জ সাইবার সন্ত্রাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে দেন। সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা ও কূটনীতিকদের জীবনকে ঝুঁকি মুখে ফেলেন। পামেলার জবাব ছিল, আমেরিকান সরকার কতজন মানুষকে হত্যা করেছে, আর উইকিলিকস কতজনকে?
গোপনীয় দলিল ফাঁস করার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দেশটির হস্তক্ষেপেই ইকুয়েডর উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতাকে লন্ডন পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
২০১৭ সালে মেগানের বাবা রাজনীতিবিদ জন ম্যাককেইনও অ্যাসাঞ্জের বিপক্ষে বক্তৃতা দেন। তিনি অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কাজ করে এমন ব্যক্তিদের নাম ফাঁস করে বিপদে ফেলে দিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ।
কিন্তু পামেলার দাবি, তার বন্ধু কাউকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন এমন প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, “আমি মনে করি এডওয়ার্ড স্লোডেন, চেলসি ম্যানিংয়ের মতো ব্যক্তিরা নায়ক, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ হলেন প্রকাশক।”
তখন পাল্টা তীর ছুড়ে মেগান জানান, পুতিনও অ্যাসাঞ্জকে সাইবার সন্ত্রাসী ভাবেন।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ইমেইল ফাঁস ও গোয়েন্দা দলিল ফাঁস করে দেয় উইকিলিকস। এ প্রসঙ্গ টেনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার জন্য অ্যাসাঞ্জকে দায়ী করেন জয় বেহার। তখন পামেলা বলেন, “ট্রাম্পের বিজয়ের জন্য দায়ী হিলারি ক্লিনটন।”
জয়ের আরেক মন্তব্যের জবাবে পামেলা জানান, অ্যাসাঞ্জ ট্রাম্পকে সাহায্য করেননি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে হিলারির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।