ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস নামানোর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে নগর পরিকল্পনাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
তিনি বলেছেন, পৃথিবীর আধুনিক শহরগুলো যেখানে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে, সেখানে বাংলাদেশকে এখনো শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করে যেতে হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) পুরকৌশল বিভাগ এবং নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
মেয়র খোকন বলেন, ‘উন্নত দেশে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ডিজেল বা অকটেনচালিত বাসের বদলে ইলেকট্রিক বাস আনার জন্য তারা কাজ করছে। বিষয়টি আমরাও ভেবে দেখতে পারি, কারণ বর্তমানে বিদ্যুতে আমাদের দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা যদি ইলেকট্রিক বাস চালু করতে পারি, কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ অনেক কমে আসতে পারে। আশা করি বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বাসযোগ্যতার বিচারে বিশ্বের ১৪০টি শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ঢাকার অবস্থান দেখানো হয়েছে ১৩৭তম। কিন্তু অনেকেই ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য তৃতীয় শহর বলছেন। তা না বলে বসবাসের যোগ্য শহরের মধ্যে ১৩৭তম বললেও তো হয়।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক, উত্তর) প্রবীর কুমার রায় বলেন, ‘পথচারীদের ‘অসচেতনতা’য় রাজধানীর ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। ফুটওভারব্রিজ থাকার পরও নগরবাসী তা ব্যবহার করছে না। সে জন্য বনানীতে একটি ‘মডেল’ চালু করা হয়েছে। কেউ যদি ওই সড়কে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করে হেঁটে সড়ক পারাপারের চেষ্টা করে; তবে তাকে এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ৫ মিনিট সময়ের চেয়ে যে জীবনের মূল্য বেশি, সে বিষয়ে ওই এক ঘণ্টা তাকে বোঝানো হয়। ট্রাফিক আইনের গুরুত্ব বুঝিয়ে সচেতন করা হয়।’
পরিবহন বিশেষজ্ঞ এসএম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘গণপরিবহনের সমস্যা সমাধানে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা বা এসটিপি করা হলেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি নির্দেশনা দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি।’
আইইবির পুরকৌশল বিভাগের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক এসএম সালেহ উদ্দিন আহমেদ, আইইবির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. নুরুজ্জামান, সম্মানীয় সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, পুরকৌশল বিভাগের সম্পাদক শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এ আলোচনায় অংশ নেন।