ঘুষ না পেয়ে আসামির স্ত্রীকে ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

যশোরের শার্শায় গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। যশোরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দিন হোসাইন রবিবার শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আট দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। এ সময় আদালত ৮ সেপ্টেম্বর রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন।

অভিযোগকারী নারী গত ৩ সেপ্টেম্বর সারাদিন শার্শার গোরপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খায়রুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার ও সাংবাদিকদের কাছে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। কিন্তু রাতে তিনি একজনকে অজ্ঞাত ও তিনজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

পুলিশ ওই তিনজনকে ওই রাতেই আটক করে। এ তিনজন হচ্ছেন- শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের কামারুল, লক্ষণপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ ও আব্দুল কাদের। তবে মামলায় এসআই খায়রুলের নাম না থাকায় তোলপাড় হয়।

এসময় যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন শিকদার ও শার্শা থানার সে সময়ের ওসি মসিউর রহমান বলেছিলেন, অভিযোগকারী নারীর সামনে অভিযুক্ত এসআই খায়রুলসহ চারজনকে হাজির করা হলে তিনি পুলিশের ওই কর্মকর্তা ছাড়া বাকি তিনজনকে শনাক্ত করেন। অজ্ঞাত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

তবে গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই নারী তার বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের ভয়ে তিনি সেদিন (৩ সেপ্টেম্বর) এসআই খায়রুলের নাম বলেননি। খায়রুলকে তিনি ভালো করেই চেনেন।

মামলাটি এখন তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

একই সময় এ মামলার তদন্তভার পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে শার্শার থানা থেকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই পুলিশের এ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার পক্ষ থেকে  তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে ইন্সপেক্টর শেখ মোনায়েম হোসেনকে। দায়িত্ব পেয়েই ৬ সেপ্টেম্বর তিনি ওই গৃহবধূর বাড়ি যান ও জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

এদিকে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় ডাক্তারি পরীক্ষায় পাওয়া ধর্ষণের আলামতের সঙ্গে গ্রেপ্তার তিনজনের ডিএনএ টেস্ট করাতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোনায়েম হোসেন বলেন, ভিকটিমের সোয়াপ কালেকশন করে ডিএনএ প্রোফাইলের জন্যে সিআইডি হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের  অংশ হিসেবে ডাক্তারি পরীক্ষায় পাওয়া ধর্ষণের আলামতের সঙ্গে গ্রেপ্তার তিনজনের ডিএনএ টেস্ট করাতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

এসআই খায়রুলের সম্পৃক্ততা আছে কিনা, সেটি তদন্তে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তদন্তের বিষয়। তদন্তে কারও যদি সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে পরবর্তীতে আপনাদের জানানো হবে।

অপরদিকে শনিবার রাতে শার্শা থানার ওসি মসিউর রহমানের বদলির খবর চাউর হলে বিভিন্ন গুঞ্জন ওঠে। এসময় যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, শার্শা থানার ওসি মসিউর রহমানকে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাকে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ বদলির সাথে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে, ওই নারী এসআই খায়রুলকে চেনেন এবং ভয়ে তার কথা পুলিশের সামনে বলেননি দাবির বিষয়ে শনিবার শার্শা থানার ওসি মসিউর রহমানের কাছে জানতে তিনি বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে পিবিআই তদন্ত করছে। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

গত ২ সেপ্টেম্বর শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর এলাকায় ওই গৃহবধূর বাড়িতে গভীর রাতে যান এসআই খায়রুল ও তার সোর্স কামরুলসহ চারজন। তারা ওই গৃহবধূর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই খায়রুল ও কামরুল তাকে ধর্ষণ করেন বলে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন।