বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে দেশের প্রথম লিভার প্রতিস্থাপনকারী সিরাজুল ইসলাম (২০) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ২৪ জুন এই হাসপাতালেই প্রথম রোগী হিসেবে লিভার প্রতিস্থাপন হয়েছিল এই তরুণের। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়িতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তাকে পুনরায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিরাজুল।
গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সিরাজুল মারা গেলেও এত দিন গোপন ছিল সে তথ্য। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ মৃত্যুর খবর কাউকে জানতে দেয়নি। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষেও তথ্যটি পৌঁছেনি। রবিবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ঈদুল আজহার সময়ই বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিরাজুলের মৃত্যু হয়। ওই সময় দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় সিরাজুলের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়নি।
বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া রবিবার দেশ রূপান্তরের কাছে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সিরাজুলের সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিভার প্রতিস্থাপন শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বাড়িতে গিয়ে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। একেবারে শেষ পর্যায়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। তখন আর আমদের কিছু করার ছিল না।
সিরাজুলের মৃত্যুর বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু আক্রান্ত মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। যারা অধিদপ্তরে তথ্য প্রদান করে তারা বলতে পারবে।
এদিকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৮ জন। আগের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর চাপ কম। আগে যেখানে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে আসত, সেখানে এখন ১৫০-২০০ রোগী আসে। বর্তমানে ৬৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা আশা করি সিটি করপোরেশন যদি মশা নিধন করতে পারে তবে আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়বে না।