জাবিতে আন্দোলন

পৃথক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে শিক্ষক শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিন দফা দাবি ও আন্দোলনের দুই নেতাকে মারধরের প্রতিবাদে সকালে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও পথনাটকের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বেলা ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকদের একাংশ। সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা নতুন কলা ভবন থেকে পদযাত্রা ও দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। আওয়ামীপন্থিদের একাংশ, বিএনপি ও বামপন্থি প্রায় অর্ধশত শিক্ষক এতে অংশ নেন। শিক্ষকদের সমাবেশে যোগ দেন শিক্ষার্থীরাও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের টাকা থেকে জাবি শাখা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম দুই কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়েছেন বলে সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়। এরপরই দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও মাস্টারপ্ল্যানের সংশোধন দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এরই মধ্যে গত শনিবার আন্দোলনের এক নেতাকে জাবি ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক ম-ল ‘মারধর করা’য় ভেস্তে যায় প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত আলোচনা। এদিকে টাকা ভাগ ও আন্দোলনকারীদের মারধরের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে গতকাল বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করে জাবি ছাত্রলীগ।

শিক্ষকদের সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মহাপরিকল্পনার দুর্নীতির সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে সন্ত্রাস। সন্ত্রাস ও আধিপত্য যদি অব্যাহত থাকে তাহলে উদ্ভূত সংকটের সমাধান হবে না।  গত কয়েক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনাগুলো ঘটছে এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং চ্যান্সেলর কার্যালয়ের অবহিত থাকার কথা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের টাকায় চলে। তাই এখানে কী হচ্ছে সেটা জানার অধিকার জনগণের আছে।’ বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা কোনো মহাপরিকল্পনা দেখছি না; টাকা খাওয়ার কুপরিকল্পনা দেখতে পাচ্ছি।’ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে টাকা এখনো এলো না, সেটা ভাগ-বাটোয়ারা কীভাবে হয়? আমরা জানি প্রকল্পের টেন্ডার নিতে হলে ৪০ শতাংশ টাকা লিকুইড মানি হিসেবে রাখতে হয়। সে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করলে কি দুর্নীতি হয় না?’ বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম তালুকদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সাদিয়া আহমদ, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক রায়হান রাইন প্রমুখ।

এদিকে টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ ‘প্রোপাগান্ডা’ ও জাবির নেতা অভিষেক ম-লের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ। তাদের দাবি, ছাত্রলীগকে প্রশাসন দুই কোটি টাকা দিয়েছে বলে যে খবরের ভিত্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন তা একটি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। এ ছাড়া শনিবার অভিষেক ম-লের বিরুদ্ধে এক আন্দোলনকারীকে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে তা ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি সংগঠনটির। অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের মামলা করার সিদ্ধান্তকে প্রহসন হিসেবে আখ্যা দেন নেতাকর্মীরা।