আফগানদের দুর্বলতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

কালে কালে চিত্রপট বদলে গেছে। একটা সময় যে দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশ পেত অনায়াস জয়, সেই আফগানিস্তান শক্তি-সামর্থ্যে এখন এগিয়ে গেছে অনেকটাই। তাই তো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে আফগানদের মোকাবিলার আগে জোর গলায় জয়ের কথা বলতে পারছেন না বাংলাদেশের ফুটবলাররা। সর্বশেষ দেখায় আফগানদের কাছে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ২০১৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপপর্বের দেখায় হারের ব্যবধানটা ছিল ৪-০। অথচ এই আফগানদের অতীতে ৪-১ গোলে হারানোর সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। আর অনূর্ধ্ব-২৩ দল তো এখন অবধি একবারও হারেনি আফগানদের কাছে। এসএ গেমস এবং এশিয়ান গেমস মিলিয়ে চারবারের দেখায় বাংলাদেশের যুবারা জিতেছে ৩ বার আর একটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। মঙ্গলবার আফগানদের দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ চাইছে পয়েন্ট পেতে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান নিজেদের ভেন্যু ম্যাচ আয়োজনের অধিকার হারিয়ে ভাড়া করেছে তাজিকিস্তানের দুশানবের পামির স্টেডিয়ামকে। আর এটাকে আফগানদের অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলার মামুনুল ইসলাম। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক একই সঙ্গে আফগানদের মাঠের খেলার কিন্তু দুর্বলতার কথাও বলেছেন। যে ফাঁকফোকরগুলো কাজে লাগিয়ে আফগানদের রুখে দিতে চায় বাংলাদেশ, ‘ওরা অনেক শক্তিশালী দল। তারা নিজেদের আরও ওপরে দেখতে চায় বলেই সাফ ছেড়ে সেন্ট্রাল জোনে চলে গেছে। তাদের সঙ্গে ম্যাচটা তাই মোটেই সহজ হবে না। তাদের সমীহ করেই খেলতে নামব। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, ওদের নিজস্ব ভেন্যুতে আমাদের খেলতে হচ্ছে না। আমরা খেলব নিরপেক্ষ ভেন্যুতে,’ বলছিলেন মামুনুল।

‘ই’ গ্রুপে র‌্যাংকিং-এর হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। এটাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার, ‘আমরা গ্রুপের লোয়েস্ট র‌্যাংকিং দল। এটা যেমন নেতিবাচক, তেমন ইতিবাচকও। কারণ আমরা চাইব আমাদের চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোকে হারিয়ে রেটিং পয়েন্ট বাড়াতে। এখানে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত দলের যে অবস্থা তাতে আমি আত্মবিশ্বাসী। আফগানিস্তান কাতারের বিপক্ষে একটা কঠিন ম্যাচ খেলে এখানে এসেছে। স্বভাবতই তারা খানিকটা ক্লান্ত থাকবে। আমরা খেলব একেবারে ফ্রেশ অবস্থায়। আমাদের সেরাটা দিয়েই ওদের কাছ থেকে পয়েন্ট আদায় করতে হবে। এছাড়া আমার মনে হয়েছে উইথ বল ওরা অনেক ভয়ংকর। খুব দ্রুত আক্রমণে উঠতে পারে। কিন্তু উইথআউট বলে ওরা খুব সেøা হয়ে যায়। এই দুর্বলতাটা কাজে লাগিয়ে আমাদেরও আক্রমণে উঠতে হবে।’

হালকা চোটের কারণে মামুনুল এএফসি কাপে নিজের দল আবাহনীর হয়ে দু’টি ম্যাচ বিশ্রামে ছিলেন। তাজিকিস্তান যাওয়ার পর ফিটনেস নিয়ে অনেক কাজ করার কথাই বলেছেন তিনি। ‘এখানে এসে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি। আমি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত দলকে এবং দেশকে কিছু দেওয়ার জন্য।’