উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৭০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১০৫ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন ভূঁইয়া। আবেদনে উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গত ৭ জুলাই আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে ১০৫ আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে নিয়োগ পাওয়া ৫২ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে বহাল রাখা হয়। এ নিয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৭ জনে।
গত ২১ জুলাই ৭০ জনকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩১ জনকে নতুন নিয়োগ, ৩২ জনকে পুনঃনিয়োগ ও সাতজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে পদোন্নতি দিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল করা হয়।
রিটকারী আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই আইন কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কেননা হাইকোর্ট বিভাগে এনরোলমেন্ট হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর প্র্যাকটিস করার পর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগের যোগ্যতা লাভ করতে হয়। কিন্তু এই পদে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেরই হাইকোর্টে পাঁচ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়, যারা হাইকোর্টে বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। আর বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর। অথচ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকের বয়স এরমধ্যে ৬৭ বছর পেরিয়ে গেছে।’
আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন বলেন, ‘নিয়োগ পাওয়া ওই আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি স্বাধীন প্রসিকিউশন কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের কার্য পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।’