সোনারগাঁ উপজেলায় ভুল চিকিৎসায় অমান্তিকা নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্তব্যরত লোকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।
নিহত অমান্তিকার স্বামী পিন্টু মিয়া জানান, গত শুক্রবার বিকেলে তার স্ত্রী অমান্তিকার প্রসব ব্যথা উঠলে মোগরাপাড়া চৌরাস্তার সোনারগাঁ শপিং কমপ্লেক্সের ৩য় তলায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে কর্তব্যরত গাইনি ডাক্তার নুরজাহান তাকে সিজার করতে হবে বলে জানান। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৩ হাজার টাকায় অমান্তিকাকে সিজার করার চুক্তি করেন।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে অমান্তিকাকে সিজার করেন এবং একটি কন্যা সন্তানের জম্ম দেন। এরপর ডাক্তার নুরজাহার তাড়াহুড়ো করে আরেকটি অপারেশন আছে বলে সাথে থাকা নার্সকে সেলাই করার জন্য নির্দেশ দিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এদিকে, সেলাইয়ের পর রাত যত বাড়তে থাকে অমান্তিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার পেট ব্যথাসহ কয়েকবার বমি করেন। পরে হাসপাতালের নার্সরা অমান্তিকা শারীরিক অবস্থার কথা ডা. নুরজাহানকে জানালে তিনি শনিবার সকালে অমান্তিকাকে নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে নিতে বলেন।
সেখানে নিয়ে গেলে অমান্তিকাকে ২ দফা অপারেশন করেন নুরজাহান। অপারেশন শেষে অমান্তিকার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে রোগীর স্বজনদের জানানো হয় রোগীর কিডনিতে সমস্যা আছে তাকে দ্রুত ঢাকা আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
শনিবার রাতেই স্বজনরা রোগীকে আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অমান্তিকা মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে অমান্তিকার স্বজনরা সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স রেখে তার মৃত্যুর বিচার চেয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অমান্তিকা (১৯) উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড়সাদিপুর গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে ও পিন্টু মিয়ার স্ত্রী।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডা. নুরজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের মালিক মানসুরা বেগমের ভাই সৈয়দ শরিফউদ্দিন কাদেরী বলেন, আমার বোন বর্তমানে আমেরিকা রয়েছেন। হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় আমরা জড়িত নই। এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের। মালিকপক্ষ হিসেবে এ ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রোগীর আত্মীয়-স্বজন আমাদের হাসপাতালে ভাঙচুর করায় থানায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন জানান, হাপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে, ভাঙচুরের ঘটনায় হাসপাতালের মালিকপক্ষ থেকে সৈয়দ শরিফউদ্দিন কাদেরী বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।