মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুটি দোকান ও একটি বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নারীসহ আহত হয় ছয়জন।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ছাত্রলীগের এই নেতা হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
আহতরা হলেন- নার্গিস বেগম (৩২), রাজীব শিকদার (৩০), নান্টু শিকদার (৩৫), হাবি মুনশি (৩৬), হুমায়ূন খান (৪০) ও হারুন শিকদার (৫০)। আহতরা সবাই মহিষেরচর এলাকায় বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অবৈধভাবে জমি দখলে দিতে ছাত্রলীগ নেতা তার সমর্থকদের নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে আহত হয় নারীসহ ৬ জন। তবে বায়েজিদের দাবি, এলাকার কিছু ছেলে দোকান ও ঘর ভাঙচুর করলেও পরে তিনি তাদের মিলিয়ে দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর হাওলাদার বাড়ির ছেলে ছাত্রলীগ নেতা বায়েজিদ হাওলাদারে সঙ্গে একই এলাকার রাজীব শিকদারের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও কয়েকবার দুই পক্ষের সঙ্গে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা বায়েজিদ হাওলাদারের সমর্থকরা রাজীব শিকদারের ওপর হামলা চালায়। পরে তারা রাজীব ও নান্টুর দোকানঘর ভাঙচুর করে। এ সময় তারা একটি বসতঘরেও ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে আহত হয় ছয়জন। পরে আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ।
ভুক্তভোগী রাজীব শিকদার বলেন, ‘আমি সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে থাকি। কিন্তু ক্ষমতা ও লোকবল দিয়ে বায়েজিদ আমার জমির দখলে যেতে চায়। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপর হামলা চালায়। হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনার পরে আমি পুলিশকে সব জানাই। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয় জানতে মুঠোফোনে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ হাওলাদার বলেন, ‘এলাকায় আমার সঙ্গে কারও কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমি কোন হামলা সঙ্গে জড়িত নই। রাতে এলাকার কয়েকজন ছেলে মারপিট করেছে আমি ওদের কাছে গিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘হামলার খবর শুনে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। দুই পক্ষের সঙ্গেই আমরা কথা বলেছি। তবে কোন পক্ষই আমাদের কাছে কোন মামলা করেনি। তারা সম্ভবত স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে নিবে।’