কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির হুংকারের একদিন পরই বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি প্রধান দিলীপ ঘোষ বললেন, ‘‘আসামের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে। তাতে প্রায় দুই কোটি মানুষ বাদ যাবে। বিদেশি নাগরিকেরা এসে রাজ্য তথা দেশের সম্পদ নষ্ট করছে। তা রুখতেই এনআরসি প্রয়োজন।’’
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘সেভ বেঙ্গল’ নামে একটি আলোচনাসভায় এই সব কথা বলেন দিলীপ।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
এদিকে রাজ্যে এনআরসি রুখতে পথে নেমে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ প্রসঙ্গে দিলীপের কটাক্ষ, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর পুরোনো অভ্যাস আছে কিছু হলেই রাস্তায় নেমে পড়া। বাড়ি থাকতে পারেন না। সেই অভ্যাস বজায় রাখতেই তিনি রাস্তায় নামছেন। ২০২১ সালের পরে তো রাস্তাতেই নামতে হবে। তবে যে-ই রাস্তায় নামুক, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবেই।’’
কয়েক দিন আগে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, বাংলায় এনআরসি মানবেন না। সেই সংকল্পকে আন্দোলনে পরিণত করতে বৃহস্পতিবার রাজপথে নামছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। নিয়েছেন ব্যাপক কর্মসূচি।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি কলকাতা এসে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির পক্ষে কথা বলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে এসে বারবার এনআরসির সম্ভাবনা উসকে দিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আসলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন- যাতে ভবিষ্যতে ভিটেমাটি ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থেকে অনেকেই তাদের প্রতি সমর্থনে ঝোঁকেন।