সম্পদের মালিক হতে ছাত্র রাজনীতি অশনি সংকেত: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য ছাত্র রাজনীতি করা জাতির অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।  

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে  নির্বাচিত ৬ জন ছাত্র নেতাসহ ২২ জন বিভাগীয় প্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীন হলেও মানুষের মৌলিক অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি। বর্তমানে আমাদের রাজনৈতিক মুক্তি মিললেও অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি।

তিনি আরও বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বেই সফলতা এসেছে।

তাই ছাত্র সমাজকে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে নগণ্য সংখ্যক কিছু দুষ্কৃতকারী এখনও সক্রিয়। এরা ছাত্র রাজনীতি করেন সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য যা জাতির জন্য অশনি সংকেত। এ জন্য অতীত ছাত্রসমাজের ইতিহাস মনে করে বর্তমান ছাত্র নেতাদের দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের রুখতে ছাত্রসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

গাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদাধিকারবলে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সভাপতি। দু’বছর মেয়াদকালীন কমিটির সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, ক্রীড়া সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, প্রচার ও সমাজ সেবা সম্পাদক পদ নিয়মিত ছাত্রদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। সহ ক্রীড়া সম্পাদক, সহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং সহ প্রচার ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ অর্থাৎ সকল সহ সম্পাদকগণ বিভাগীয় প্রতিনিধি দ্বারা নির্বাচিত হন।

এবার তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে গাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে মো. জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. নজরুল ইসলাম নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত অন্য সদস্যরা হলো- কোষাধ্যক্ষ খাদিজা আক্তার সেতু, ক্রীড়া সম্পাদক মাহতাবুর রহমান সবুজ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রকিবুল হাসান শিপন এবং প্রচার ও সমাজসেবা সম্পাদক অর্জুন রাজ বংশী।