জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনায় দুটি দাবি মেনে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ হলের পাশের তিনটি হলের দু'টি হল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে এবং একটি হলকে পশ্চিম দিকে পিছিয়ে নির্মাণ করা হবে।
আরেকটি দফা- মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাসের দাবিও মেনে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহাপরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্য বর্তমান বিশেষজ্ঞ কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিরীক্ষা করার জন্য একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হবে। প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কমিটিকে নির্দিষ্ট সময় পরপর অগ্রগতি জানানো হবে।
প্রকল্পের টাকা থেকে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের দাবির ব্যাপারে আইনী পরামর্শের জন্য উপাচার্য তিন কর্ম দিবসের সময় নিয়েছেন। আগামী বুধবার এ ব্যাপারে ফের আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে আলোচনা শুরু হয়। রাত পৌনে নয়টায় আলোচনা শেষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আলোচনায় আন্দোলনরত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজ, প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আহসান হাবিব অংশ নিয়েছেন।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দীন, অধ্যাপক খবির উদ্দিন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, রায়হান রাইন, এ এস এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, বাংলা বিভাগের শামীমা সুলতানা, তারেক রেজা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম পাপ্পু, প্রচার সম্পাদক মারুফ মোজাম্মেল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক, কার্যকরী সদস্য রাকিবুল হক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে, দপ্তর সম্পাদক রেবেকা আহমেদ এবং বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র খান মুনতাসির আরমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির ও আরিফুল ইসলাম আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
এর আগে তিন দফা দাবিতে গত ৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর টানা তিনদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
৫ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে উপাচার্য তাদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলে দাবির ব্যাপারে ‘আন্তরিকতার’ শর্তে প্রস্তাবে রাজি হয় তারা। ৭ সেপ্টেম্বর আলোচনা শুরুর আগ মুহূর্তে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে এক ছাত্রলীগ নেতার মারধরে আলোচনা ভেস্তে যায় সেদিন। বৃহস্পতিবার আলোচনাটি আবার অনুষ্ঠিত হয়।