টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে কয়েক দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে নগরীর ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, বহদ্দারহাট, ফরিদারপাড়া, বাকলিয়া, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকা, হালিশহর, ঈদগাহ, বিবিরহাট এলাকা, কাতালগঞ্জ, ষোলকবহর, বাদুরতলা, চকবাজার, তালতলা, চাকতাই, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা রিকান্ত কুমার বসাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভূমি ও পাহাড়ধস হতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৪.০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ভারী বর্ষণে ভূমি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন মাইকিং করেছে। তারা সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৭ পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে যেতে বলেছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ইতিমধ্যে ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের এখানে আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু পাহাড় মালিকদের অনাগ্রহের কারণে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস বাড়ছেই।
আক্ষেপ করে তিনি আরও জানান, চলতি বর্ষার আগে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ১৭টি পাহাড় থেকে ৮৩৫ পরিবারকে সরিয়ে মালিকদের পাহাড় বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সে সময়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন কেটে দেওয়া হয়। তারপরও সেখানে বসতি গড়ে উঠেছে, এটা দুঃখজনক।