আইসিসির নিষেধাজ্ঞার খড়গ এখনো ঝুলছে মাথার ওপর। তা নিয়েই টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকা-ে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আইসিসির সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করা হয় জিম্বাবুয়ের। এতে করে আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্ট থেকে বাতিল হয়ে যায় তারা। তবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাধা নেই। সে কারণেই বাংলাদেশে আসতে পেরেছে হ্যামিল্টন মাসাকাদজারা। আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ তাদের।
১৯৮৩’র ওয়ানডে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত জিম্বাবুয়ে আইসিসির পূর্ণাঙ্গ সদস্য হয় ১৯৯২ সালে। সেই সদস্য পদ স্থগিত এখন। অক্টোবরের মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচন করে নিরপেক্ষ বোর্ড কমিটি আনতে হবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে। অক্টোবরে আইসিসি পরবর্তী সভায় এ প্রক্রিয়া যাচাই বাছাই করবে। সব ঠিক থাকলে তবেই সদস্য পদ পুনর্বহাল হবে জিম্বাবুয়ের। এই সময়ে ক্যারিয়ার হারানোর শঙ্কা জেঁকে বসে ক্রিকেটারদের মনে। প্রথমসারির ক্রিকেটাররা প্রয়োজনে অর্থকড়ি ছাড়াই ক্রিকেট খেলার ঘোষণা দেন। এমন সময়ে বাংলাদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ তাদের আকাশের চাঁদ হয়ে এসেছে। তাই এই সিরিজে বোর্ডে কী হচ্ছে সেসব ভুলে গিয়ে দেশের জন্য ভালো করতে চান মাসাকাদজারা। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানানÑ ‘হ্যাঁ, অবশ্যই অনেক কিছু হয়েছে আমাদের বোর্ডে। কিন্তু সেসব পর্দার আড়ালের বিষয়। দিন শেষে আমাদের কাজ হলো মাঠে যাওয়া এবং খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের সেরা খেলাটা দেওয়া। আমরা তাই বোর্ডের কী হয়েছে সেসব নিয়ে ভাবছি না, অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য বোর্ড কর্মকর্তারা আছেন। আমরা আগামীকাল (আজ) সামনে পদক্ষেপ রাখতে চাই ও দেশের জন্য সেরাটা দিতে চাই।’
সিরিজের আগে একটিমাত্র অনুশীলন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। তাতে জয় এসেছে, তবে বাকি দুই প্রতিপক্ষ তো আগে থেকেই ক্রিকেটের মধ্যে। পরিবেশ ও পূর্ব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিজেদের খুব একটা পেছনে দেখছেন না মাসাকাদজা, ‘বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টিতে আমাদের বেশ সাফল্য আছে। হয়তো ওরা দুই দল আগে থেকেই খেলার মধ্যে আছে এবং আমরা পিছিয়ে থেকে ওদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি, কিন্তু আমরা ওদের চেয়ে পিছিয়ে থাকব না। বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলবে, এটা তাদের সুবিধার দিক। আর আফগানিস্তান এমনিতেই টি-টোয়েন্টিতে সেরা। তবুও আমরা ওদের চেয়ে খুব পিছিয়ে নেই। অবশ্যই অনুশীলন ম্যাচে যোগ দেওয়া ও খেলাটা আমাদের প্রস্তুতিতে দারুণ কাজে দিয়েছে। কিন্তু আমরা অবশ্যই সতর্ক যে প্রস্তুতি ম্যাচে যা পেয়েছি এটা কখনই মূল ম্যাচে আসবে না। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুধু আত্মবিশ্বাসটাই নিতে পারি।’
ছোট ফরম্যাট বলে সিরিজ জয়ে শুরুর আত্মবিশ্বাস রাখছেন মাসাকাদজা। স্বাগতিকদের হারানোর স্বপ্নও দেখছেন তিনি, ‘আমি আগেও বলেছি বাকি দুই দলের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে শুরু করছি না। আমরা বাংলাদেশের পরিবেশ সম্পর্কে জানি। আর টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো ম্যাচে যেকোনো দলের জেতার সুযোগ রয়েছে, কারণ ফরম্যাট যত ছোট হয় তত দুই দলের পার্থক্য কমে আসে।’
এই সিরিজ দিয়েই ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ইতি টানতে যাচ্ছেন মাসাকাদজা। পুরো ক্যারিয়ার উপভোগ করা এই ব্যাটসম্যান শেষটাও উপভোগ করতে চান ‘নিশ্চয়ই। আমার ক্যারিয়ারটা লম্বা ও সাফল্যময় ছিল। উত্থান-পতন থাকেই। তবে আমি বলব, পুরো সময়টা উপভোগ করেছি। শেষ মুহূর্তটাও দুই হাতে জড়িয়ে ধরে উপভোগ করতে চাই।’