সভাপতির কাছে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় হামলা, আহত ৭

সাভারে একটি মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ায় দাতা সদস্যদের ওপর সভাপতির লোকজনের হামলার অভিযোগে উঠেছে। হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে সাতজন।

জুমার নামাজের পর সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাসী কলাতিয়া পাড়া বড় পাকা জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে দুজনকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতরা হলেন- শ্যামলাসী কলাতিয়া পাড়া এলাকার মৃত আবদুল বাসেকের ছেলে মো. মমিন মিয়া (৫০), মো. সোরহাব আলীর ছেলে মো. আয়নাল হক (৪৪), মো. মিজানুর রহমান (৪৫), মো. পিয়ার হোসেন (৪০), ইয়ার হোসেন (৪৩), শামসুল ইসলাম (৫০) ও ইমু (২০)।

এদের মধ্যে মমিন মিয়া ও আয়নাল হককে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশেই শ্যামলাসী কলাতিয়া পাড়া বড় পাকা জামে মসজিদ। জমি কেনা ও মসজিদ নির্মাণের জন্য আমরা নিজেদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছি। সেই হিসাবে মসজিদের মুতাওয়াল্লী হওয়ার কথা আমাদের পরিবারের লোকজনের।’

‘কিন্তু এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জোড়া খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. ইয়াকুব আলী দীর্ঘদিন ধরে স্বঘোষিত সভাপতি হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা চালিয়ে আসছে। তার অত্যাচারে এলাকার মানুষেরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে’ অভিযোগ করেন তিনি।

মিজানুর বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে এলাকাবাসী ইয়াকুব আলীর কাছে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে আসছে। জুমার নামাজের পর বিষয়টি উত্থাপন করা হলে আগে থেকেই নিয়ে আসা ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়।’

স্থানীয় মুসল্লি পিয়ার হোসেন বলেন, ‘ইয়াকুব আলী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার ভয়ে লোকজন কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেও সাহস করে না। জোরপূর্বক মসজিদের সভাপতি হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এসবের হিসাব চাওয়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমি মসজিদের সভাপতি। যারা অভিযোগ করেছে তারা আমাদের সমাজের কেউ নন। এরপরও জোরপূর্বক মসজিদের হিসাব চাইলে আমরা কমিটির পক্ষ থেকে হিসাব দিয়ে দিয়েছি। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।