রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ রূপ নেওয়া কিশোর গ্যাংয়ের গ্রুপগুলো সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার উদ্দেশ্যে গড়ে উঠলেও এখন সেগুলো মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা বলছে, ফেইসবুকের মাধ্যমে এই গ্রুপগুলো তৈরিতে সক্রিয়রা একসময় পড়ালেখা করত। কিন্তু এখন তারাই মাদক কারবারি। পড়ালেখা ছেড়ে তারা নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। মাদকের কেনাবেচা নিয়ে এক গ্রুপের সঙ্গে অন্য গ্রুপের দ্বন্দ্বও রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, উত্তরার ২৭ থেকে ২৮টি কিশোর গ্যাং। এর সব সদস্যই মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে গ্রুপের সদস্যসংখ্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই তাদের। অনেকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই অন্যদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ৮ নম্বর রেলগেট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিম হোসেন শাকিল ওরফে গারু শাকিল (২০), মেহেদী হাসান (২১), মো. রায়হান (২০), হৃদয় হাসান রাব্বিকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গতকাল তাদের আদালতের মধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদক ব্যবসার কথা স্বীকার করে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই নাজমুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উত্তরায় যে কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম গারু শাকিল গ্রুপ। নাইন স্টার, বিগ বস নামে ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে শাকিল মাদক ব্যবসা চালায়। তার অন্যতম সহযোগী রায়হান। এই গ্রুপের সদস্যসংখ্যা কত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১ জুলাই ফায়দাবাদ চৌরাস্তা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই দিন দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা হয়; যা তদন্তাধীন। গ্রেপ্তাররা মামলার পলাতক আসামি।
উত্তরায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম। ওই টিমের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রাও মুখ খুলতে ভয় পান। অভিযোগ এলে তাদের গ্রেপ্তারও করা হয়। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের একই কাজ করে।
কিশোর গ্যাংয়ের উৎপত্তির বিষয়ে তারা বলেন, ২০০৭ সালে ব্ল্যাক রোজ গ্রুপের হাতে আদনান খুন হওয়ার পরই বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। তবে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বিনোদন ও খেলাধুলার কথা বলে ফেইসবুকের মাধ্যমে গ্রুপগুলো গড়ে তোলায় এত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়েছে তারা। এসব গ্রুপের সবাই এখন মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এরা প্রতিনিয়ত সদস্য সংগ্রহ করছে।