ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্য প্রিতম ভট্টাচার্যকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও সরকারী সুযোগ সুবিধা প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার সকালে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত প্রিতম ভট্টাচার্যের বাবা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য প্রাণকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য বলেন, ২০১৭ সনের ৩১ মে আমার ছেলে রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীতে সদস্য পদে যোগদান করে। ২০১৮ সনের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের ডিউটি নিয়ে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। ওই দিন ভোরে ছেলে প্রিতমের মোবাইল থেকে আমার মোবাইলে ফোন করে অপরিচিত একজন জানায় প্রিতম সীতাকুন্ড উপজেলার বারৈয়াঢালা স্টেশন সংলগ্ন তুলাতালা এলাকায় রেল লাইনের পাশে পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে আমরা তাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৮ সনের ৫ সেপ্টেম্বর প্রিতম মারা যায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতি পূরণ চেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার ধরনা দিলেও এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। আমরা ধার-দেনা করে ছেলের চিকিৎসা করেছি। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আমার ছেলের কোন ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তিনি ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রিতমের বাবা প্রাণকৃষ্ণ ভট্টাচার্য, মা স্মৃতি ভট্টাচার্য, বড় ভাই রানা ভট্টাচার্য, বোন শিউলি ভট্টাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর কাজী লিটন খাদেম।
আখাউড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (চৌকি) এর ইনচার্জ সিরাজ উদ্দিন বলেন, ট্রেন স্কট দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম এলাকায় একটি দুর্ঘটনায় প্রিতম মারা যায়। কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়ায় তার পরিবার সরকারি কি সুবিধা পেতে পারে সেই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছি। আর পরিবারের যেসব অভিযোগ এখন করছে তারা ইতিপূর্বে এই বিষয়ে কিছুই আমাদের বলেনি।