বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলা হয়। অর্থনৈতিক ভিত গড়তে দেশ দুটি সমরনীতিকে অস্ত্র বানায়। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়ার দখল নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একগুচ্ছ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি, মন্দাসহ নানা সংকটে পড়ে রুশ অর্থনীতি।
গত সপ্তাহে রুশবিরোধী দুটি অবরোধ বিলে কংগ্রেস অনুমোদন দিয়েছে। এই দফা অবরোধ কার্যকরে রাশিয়ার বোদ্ধা ও নীতিনির্ধারকরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ভøামিদির পুতিনের অবস্থান নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষত সারানো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারা বলছেন, পুতিন আসলে অবরোধকে পাত্তা না দিয়ে নিজেকে বাঁচাতে যুদ্ধের দিকে ঝুঁকবেন। অর্থের মজুত গড়বেন। ক্রেমলিনও তাকে সব ধরনের জ্বালানি দেবে। কারণ রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এলভিরা নাবিউলিনানের মতো দক্ষ আমলা পুতিনের হাতে রয়েছেন। পুতিনের আমলে রাশিয়াকে সোভিয়েত ইউনিয়ন-পরবর্তী সময়ের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হয়। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মন্দা দেখা দেয়। কিন্তু পুতিন রিভার্জ ঠিকই ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেন। এখন বৈশ্বিক চাপ ও অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় তিনি ক্রেমলিনে আলাদা ফান্ড গড়ছেন।
পুতিন স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মিসাইল উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছেন। সিরিয়া, ইউক্রেন, ভেনেজুয়েলা ছাড়াও অন্য অঞ্চলে সেনা অবস্থান শক্তের চেষ্টা করছেন।
আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো অ্যান্ডার্স ওসলার্ড বলেন, ‘পুতিন অবরোধ মোকাবিলায় বিনিয়োগ কমিয়ে দেবেন। উৎপাদন ও জনগণের চাহিদা কমবে। বিপরীতে রিজার্ভ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত তিনি আক্রমণাত্মকই থাকবেন।’
ইউরোপের রাজনীতিকরা মনে করছেন, পুতিনকে অর্থনৈতিক গর্তে ফেলা সম্ভব হবে না। ক্রেমলিন ঠিকই পথ বের করবে। যেমনটি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইয়েভেস ড্রিয়ান বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক পুনর্গঠনের এখনই সঠিক সময়।’’’