বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ইতিহাস ও মানবসভ্যতার দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এভাবে নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, হত্যা করে কেউ চিরদিন টিকে থাকতে পারেনি। ফেরাউন পারেনি, নমরুদ পারেনি। মুসোলিনী পারেনি, হিটলার পারেনি, আইয়ুব খান পারেনি, এরশাদ পারেনি। আওয়ামী লীগও পারবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন না, রাষ্ট্রই এখন রাজনীতিবিদদের পরিচালনা করছে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই, সরকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আর বিচ্ছিন্ন বলেই আজ তাদের শুধু রাষ্ট্রের যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করে, ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় ফিরে আসতে হয় এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়। এভাবে টিকে থাকার জন্যই দমন-পীড়ন, অত্যাচার হচ্ছে। আজ এক লাখ মামলায় আসামির সংখ্যা ২৬ লাখ। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ওপরে এত নির্যাতন হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।
তিনি বলেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ভীতটাকে নষ্ট করছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। আদালতে প্রভাব বিস্তার করছে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করে ফেলেছে। গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ মিডিয়াকে তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বলা যায়, তারা সফল হয়েছে। আজকে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। কথা বললেই তুলে নিয়ে যাবে। কথা বললেই মামলা হবে। এটা একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রকে এখন কেবল স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার অবৈধ। সংসদ অবৈধ। এ অবস্থায় অবিলম্বে সংসদ বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকার ও সংসদ গঠন করতে হবে। এটাই হচ্ছে আজকে জনগণের দাবি।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। আইনসঙ্গতভাবে তিনি যে জামিন পাওয়ার যোগ্য সেই জামিন নিশ্চিত করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য দাঁড়াতে হবে, আন্দোলন করতে হবে। আমাদের অধিকার আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। কেউ আমাদের দিয়ে যাবে না।
মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল বলেন, জাাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগিতে নাম আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ করা উচিত অথবা তাকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের আরও বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসেরন উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদিন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।