বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ের উদাসীনতার কারণে বন্ধ হচ্ছে না ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের শাটল ট্রেনে চলাচল। তবে শিক্ষার্থীদের সচেতনতার অভাবকে দোষারোপ করে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় ও রেলওয়ে প্রশাসন। পর্যাপ্ত বগির অভাব, শাটল ট্রেনের ভেতরে জায়গার অভাব, বগির মধ্যে ফ্যান না থাকাসহ ইত্যাদি কারণে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে শাটলের বগির দরজায় ও ছাদে যাতায়াত করতে হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত রবিবার শাটল ট্রেনের দরজায় বসে যাওয়ার সময় প্ল্যাটফর্মে রাখা সরঞ্জামে এক শিক্ষার্থীর পায়ের আঙুল কেটে যাওয়ার ঘটনার পরের দিন সোমবার বিকেল চারটার শহরমুখী শাটল ট্রেনে ঠিক একি চিত্র দেখা যায়।
জানা যায়, চট্টগ্রাম শহর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান বাহন হচ্ছে শাটল ট্রেন। প্রতিবছর শাটল ট্রেনের ভাড়া বাবদ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকাও দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত আবাসিক হল না থাকার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১২-১৫ হাজার শিক্ষার্থী শাটল ট্রেনে যাতায়াত করেন। তবে পর্যাপ্ত বগি না থাকার কারণে তাদেরকে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে শাটল ট্রেনের ছাদে ও বগির দরজায় বসে যেতে হয়। সম্প্রতি ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের উপর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাটল ট্রেনের ছাদে উঠতে বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এরপর আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে কোন কর্মসূচি নিতে দেখা যায়নি। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলেও বগির অভাবে বাধ্য হয়ে ছাদে ভ্রমণ করতে হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শাটল ট্রেনের দরজায় বসে যাতায়াত করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ রবিবার শাটল ট্রেনের দরজায় বসে যাওয়ার সময় প্ল্যাটফর্মে রাখা সরঞ্জামে এক শিক্ষার্থীর পায়ের আঙুল কেটে যায়। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় দরজায় বসা শিক্ষার্থীদের ব্যাগও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবুও দরজায় বসা বন্ধ করেননি শিক্ষার্থীরা। দরজায় না বসার জন্য পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কয়েকবার সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেলেও বর্তমানে আর এ বিষয়ে কোন অভিযান চোখে পরে নি।
এ বিষয়ে কথা বললে কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিরুপায়। শাটল ট্রেনের বগি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও স্মারকলিপি প্রদান করেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ফলাফল পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু আশ্বাস দেয়। বগি সংকটের কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও শাটল ট্রেনের দরজায় এবং ছাদে ভ্রমণ করতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, আমরা বারবার শিক্ষার্থীদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। কয়েক দিন আগে আমরা এ বিষয়ে অভিযান চালালে শিক্ষার্থীরা আরও উল্টো প্রতিক্রিয়া জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাটল ট্রেনের বগি বৃদ্ধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্ল্যাটফর্ম সংস্কারের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেছে। এখনো যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে তবে রেলওয়ের এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক বোরহান উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের প্ল্যাটফর্ম সংস্কার ও শাটল বগি বৃদ্ধির বিষয়ে কিছুদিন আগে মাননীয় রেল মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বলে এসেছেন। আমরা সে নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করে যাচ্ছি। আর ট্রেনের ছাদে এবং দরজায় না বসার জন্য আমরা প্রতিনিয়তই সচেতনতামূলক মাইকিং করে যাচ্ছি। তবুও যারা বসে তাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে অথবা তাদের মধ্যে রয়েছে আইন না মানার প্রবণতা।