ব্যাপক রদবদল এনে ত্রিদেশীয় সিরিজের বাকি অংশের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চার জনের বদলে দলে ঢুকেছেন পাঁচজন। ফর্ম হারানো সৌম্য সরকার দুই ম্যাচ খেলে বাদ পড়েছেন। এছাড়া এক ম্যাচও না খেলিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে অফস্পিন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান এবং দুই পেসার আবু হায়দার রনি ও ইয়াসিন আরাফাতকে। নতুন করে দলে জায়গা পেয়েছেন দুই অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেন ও শফিউল ইসলাম। সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত এবং দুই নতুন মুখ লেগস্পিনিং অলরাউন্ডার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব এবং বাঁ-হাতি টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাইম শেখ।
সিরিজের মাঝপথে এমন বড়সড় দলবদলে প্রশ্ন উঠেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচের দলে ছিলেন তিন পেসার। পূর্ণ ফিট থাকার পরও তিনজনের একজনকেও খেলানো হয়নি। ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে আগে থেকেই ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এ দুজনের থাকা মানে তরুণ কারও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা এমনিতেই কম। তবুও ব্যাকআপ হিসেবে দলে থাকতে পারেন। সম্ভবত সেই বিবেচনায় জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছিলেন ইয়াসিন আরাফাত। পরে শোনা যায় তার সামান্য সাইডস্ট্রেইন সমস্যা আছে। এ কারণে আবু হায়দার রনিকে দলে সুযোগ দেওয়া হয়। প্রশ্ন হলো, একাদশে বাড়তি পেসার যদি না-ই রাখা হয় তবে অতিরিক্ত দুজন পেসার রাখার কারণ কী? এক ম্যাচের জন্য আবু হায়দারকে দলে এনে আবার বাইরে ছুড়ে ফেলা কেন? নতুন করে রুবেল ও শফিউলের অন্তর্ভুক্তি বলছে দলে পেসারের প্রয়োজন আছে। তাহলে রনি ও ইয়াসিনকে সরিয়ে অভিজ্ঞদের ডাকা মানে তরুণদের ওপর অনাস্থা নয় কি? শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঠিক পরিকল্পনার অভাবটাই কি ফুটে উঠছে না?
বিশ্বকাপের শেষদিকে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসে বড় চিড় ধরেছিল। তাই ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো ফল হয়নি। শ্রীলঙ্কা সফরে বাকি থাকা আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে যায়, ফলাফল তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। এরপর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট হেরে আরও বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ ক্রিকেট। ততক্ষণে বাংলাদেশের দলগত হয়ে খেলার ব্যর্থতাও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে দলগতÑ কোনো দিকেই পারফর্ম মিলছে না। চলতি হোম সিরিজে আফগানিস্তানকেই বাংলাদেশের মূল প্রতিপক্ষ ধরা হচ্ছিল। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়তে হয় সাকিবদের। আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন বিরোচিত ইনিংস দুটি না খেললে সেদিনও বাজে কিছু হতো। অবশ্য পরের ম্যাচেই তো নিজেদের সমস্যাগুলো আবারও ফুটে উঠেছে। আত্মবিশ্বাস না থাকায় আসছে না সঠিক পরিকল্পনাও।
আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নিজেদের দুর্বলতার সহজ স্বীকারোক্তি করে গেছেন। নিজেরা যে দল হয়ে খেলতে পারছেন না তা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতি ম্যাচে হয়তো একজন দুজন পারফর্ম করছে বা করছে না। কিন্তু বেশিরভাগ খেলোয়াড় ফেল করছে। স্বাভাবিক অবস্থায় যেটা হয় বেশিরভাগ খেলোয়াড় পারফর্ম করে, দু-একজন ফেল করে। ওটাতে খুব একটা সমস্যা হয় না। আর দিনশেষে এটা যেহেতু টিমগেম তাই টিম হিসেবে যতক্ষণ না খেলতে পারছি ততক্ষণ জেতা খুবই কষ্টকর।’
সমস্যার মধ্যে থেকেই আবারও দলে বদল। সৌম্য সরকারের জায়গায় দলে জায়গা পেয়েছেন নাইম শেখ। সম্প্রতি আফগান ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরিসহ দারুণ তিনটি ইনিংস ছিল ২০ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি ওপেনারের। এছাড়া মেহেদি হাসানের জায়গায় দলে ডাক পেয়েছেন লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার আমিনুল ইসলাম। নাজমুল হোসেন শান্ত সম্প্রতি ফর্ম ফিরে পাওয়ায় ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে এই ব্যাটসম্যানের সর্বশেষ চার ইনিংসে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি সত্তরোর্ধ্ব (৭৭ ও ৮৮*) ইনিংস আছে। ক্যারিয়ারে এখনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেননি শান্ত। এই সিরিজেই হয়তো টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়ে যাবে তার।
রুবেল হোসেন গত বছর আগস্টের পর জাতীয় দলের হয়ে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি। আর এ বছর বিপিএলের পর টি-টোয়েন্টির বাইরেই ছিলেন। বিয়ের জন্য সম্প্রতি ছুটি নিয়েছিলেন বিসিবি থেকে। আর শফিউল তার সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ তো আরও আগে খেলেছেন, ২০১৭’র অক্টোবরে।
আগামীকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এই পর্ব শুরু করবে বাংলাদেশ। ২১ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের সঙ্গে শেষ ম্যাচ নিজেদের। মাঝে, ২০ তারিখ আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে খেলা। দুই জয়ে ফাইনালে এক পা দিয়েই রেখেছে টানা ১২টি টি-টোয়েন্টি জয়ের রেকর্ড গড়া আফগানরা। জিম্বাবুয়ের যা ফর্ম তাতে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠা কঠিন হওয়ার কথা নয়। তবে এ জন্য অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জ্বলে ওঠা খুব জরুরি।’'