আবার বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় নয় মাসের শিশু রাফিজসহ গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবেও ৮ জন বেড়ে মৃত ৬৮ জনে পৌঁছেছে।

আগস্টে ভয়াবহ রূপ ধারণ করা ডেঙ্গু সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও থেমে নেই মৃত্যু। এর সঙ্গে গত শনিবার থেকে আবার ডেঙ্গু আক্রা‡ন্তর সংখ্যা বাড়ছে। এই আক্রান্তদের চার ভাগের তিন ভাগই ঢাকার বাইরে। গ্রামে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় আক্রান্ত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে প্রোভিন্যান্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ মারা যাচ্ছে গ্রাম্য এলাকার। এর অন্যতম কারণ তারা চিকিৎসা নিতে অবহেলা করছে। আবার অনেক সময় শরীরে প্রয়োজনমতো তারল্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে মৃত্যু কমছে না। সবচেয়ে বড় যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, আমরা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করলেও গ্রামে তেমন উদ্যোগ নেই। কিন্তু লার্ভা এখন গ্রাম অঞ্চলেও জন্মাচ্ছে। আর গ্রামের আনাচকানাচে অহরহ পানি জমে থাকে। তাই এগুলো নির্মূলে যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সামনে আরও বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৫৩ জন নতুন আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে, যা আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ৩৪ জন বেশি। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা শহরের ৪১টি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬৩ জন আর ঢাকা শহরের বাইরে ৪৬০ জন।

সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ বছর সারা দেশে ৮১ হাজার ৮৩৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে ৭৯ হাজার ১২৯ জন। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ২ হাজার ৫০৭ জন। এদের মধ্যে ঢাকায় ৯৮৩ ও ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৫২৪ জন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চলতি বছর ডেঙ্গু সন্দেহে ২০৩ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এদের মধ্যে ১১৬টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৬৮ জন ডেঙ্গুতে মৃত্যু হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু : আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনার পাঠানো তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন ডেঙ্গুতে মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর ওই হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে চলতি বছর ৭ হাজার ৪০৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৬২৩ জন। আর সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়েছে ১৮৮ জন।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কামরুজ্জামানের ৯ মাস বয়সী ছেলে রাফিজ গত রবিবার গভীর রাতে খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তাকে ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

স্বজনরা জানান, রাফিজ কিছুদিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দিলে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে রাফিজ আবারও ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে প্রথমে তাকে খুলনার গাজী মেডিকেলে, পরে খুলনা মেডিকেলের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

একই হাসপাতালে  সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খবিরউদ্দিন (৫০) নামে আরও এক ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। খবিরউদ্দিন যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাসিন্দা। গত রবিবার বিকেলে তাকে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।