কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপের উপদ্রব, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পাহাড়ি সাপের উপদ্রব দিনকে দিন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, প্রশাসনিক ভবনের নিচতলা, রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং ক্যাফেটেরিয়া থেকে গত কয়েক মাসে প্রায় ডজনখানেক সাপ মারা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘন ঝোপঝাড় থাকা, বদ্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে প্রশাসনের উদাসীনতায় সাপের উৎপাত বাড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

আবাসিক হল, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবাসিক হলে কার্বলিক অ্যাসিডের বোতল থাকলেও তার অধিকাংশেরই মেয়াদ নেই বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কার্বলিক অ্যাসিডের কিছু বোতলে উইপোকা বাসা করে আছে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা ক্যাম্পাসের পুরো এরিয়া জুড়েই রয়েছে উঁচু নিচু পাহাড়ি টিলা। এসব টিলার চারপাশে ঘন ঝোপঝাড়ে আচ্ছন্ন। প্রচণ্ড গরমে এবং বৃষ্টি হলে ঝোপঝাড় থেকে পাহাড়ি বিষধর সাপ বেরিয়ে আসে। এছাড়া ক্যাম্পাসের বদ্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় নোংরা পরিবেশে বাড়ছে পাহাড়ি বিষধর সাপের উপদ্রব। প্রায়ই ড্রেনগুলোতে সাপ ও সাপের বাচ্চাসহ চলাফেরা করতে দেখা যায়।

গত দুই সপ্তাহে ছাত্রদের আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের নিচ তলা এবং তিনতলা থেকে দুইটি পাহাড়ি বিষধর মারেন শিক্ষার্থীরা। এ হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে কার্বলিক অ্যাসিড ভালোভাবে না ছিটানোয় সাপের উপদ্রব বাড়ছে। প্রায় সময়ই হলে সাপ দেখা যায়। এমনকি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এ হলের ৫ম তলায়ও সাপ দেখার ঘটনা ঘটেছে।

১ম বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সেদিন রাত দেড়টার দিকে গণ রুমের সঙ্গে ওয়াশ রুমের পাশে আমরা প্রায় সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সাপ দেখতে পাই। দেখে অনেক বিষাক্ত মনে হয়েছিল। পরে আমরা বন্ধুরা মিলে সাপটিকে মেরে ফেলি। প্রায়ই এদিকটায় সাপ দেখা যায়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

এদিকে গত মে মাসে কাজী নজরুল ইসলাম হলের ২০৩নং রুম থেকে একটি বিষধর সাপ মারেন রুমে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। হলটির বদ্ধ ড্রেনে প্রায়ই সাপ চলাচল করতে দেখা যায়। এ হলে সাপের উপদ্রব ঠেকাতে ওয়াশ রুমের পাশে কার্বলিক অ্যাসিডের বোতল ঝোলানো দেখা গেলেও বোতলে উইপোকার বাসা দেখা যায়। আবার অনেক বোতলেরই মেয়াদ নেই। এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ এরশাদুল আলম বলেন, ‘হলে নতুন কার্বলিক অ্যাসিডের বোতল দেয়া হয়েছে। কিছু আছে হয়তো মেয়াদ শেষ, সেগুলো আমরা নতুন করে দেব।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘প্রতি বছর এ সময়টাতে সাপের উপদ্রব বাড়লেও প্রশাসনের এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই। ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং ড্রেনগুলো আবদ্ধ থাকলে সাপের উপদ্রব ঠেকানো যাবে না। আর কার্বলিক অ্যাসিডের বোতলগুলোও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখাশোনা করা হয় না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেড় মাস পর পর হল প্রশাসনের উদ্যোগে কার্বলিক অ্যাসিড ছিটিয়ে দিই। এ ছাড়া ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার করার কারণে এ হলে সাপের উপদ্রব নেই।’

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জুলহাস মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হলে কার্বলিক অ্যাসিড দিয়েছি। ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ চলছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমি এস্টেট শাখাকে বলে দিয়েছি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। এর জন্য আলাদা বাজেট প্রয়োজন হলে সেটারও ব্যবস্থা করা হবে।’

এস্টেট শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে কার্বলিক অ্যাসিড দেয়া হবে। তবে হলগুলোতে হল প্রশাসনের জন্য আলাদা বরাদ্দ আছে। সেটা তারা দেখাশোনা করবে।’