মুন্সীগঞ্জে পদ্মার বালু উত্তোলনের মহোৎসব

মুন্সীগঞ্জ সদরের শিলই ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় বাজার লাগোয়া পদ্মা নদীতে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন ভোর থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে শুরু হয় বালু উত্তোলন। বিরতিহীনভাবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবাধে এ বালু উত্তোলন চলে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে সদরের শিলই ও টঙ্গীবাড়ির দিঘীরপাড় বাজার এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ইসমাইল বেপারীর নেতৃত্বে এ বালু উত্তোলন চলে। তিনি শিলই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন বেপারীর ভাই। চলতি বছরের শুরুতে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকালে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করে। এরপর বেশ কিছুদিন সেখানে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। তবে সম্প্রতি আবারও অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করেন শিলই ইউপির চেয়ারম্যানের ভাই ইসমাইল বেপারী।

স্থানীয়রা জানায়, ভোরে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তুলে ট্রলারে ভর্তি করে বিক্রি করার জন্য অন্যত্র নিয়ে যায়। ভোর শেষে সকালের দিকে শুরু হয় পাইপের মাধ্যমে দিঘীরপাড় বাজারে নদীর তীরে বালু মজুদ। এরপর সেই বালু বিক্রি করেন ইসমাইল বেপারী।

সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র দেখার পর শিলই ইউনিয়নের ঢ়াকিরকান্দি গ্রামে ইসমাইল বেপারীর বাড়িতে গেলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে জানান, অনেকদিন আগে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন শুরু করলে প্রশাসনের লোকজন এসে ড্রেজার ও ড্রেজারের পাইপ আগুনে পুড়িয়ে দেয়। তারপর থেকে নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। তবে কয়েকদিন ধরে সরকারি কাজের জন্য ও নিজের বাড়ির প্রয়োজনে একটিমাত্র ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ বলেন, বছরখানেক আগে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে শিলই ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার ও বিপুল পরিমাণ পাইপ জব্দ করে। পরে ওই ড্রেজার ও পাইপ আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। তবে বর্তমানে আবার শুরু হয়ে থাকলে প্রশাসন তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।