ইয়েল গ্র্যাজুয়েট, ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকার এখন গৃহহীন!

আমেরিকার তৃতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ইয়েলে পড়াশোনা করেছেন, একসময় চাকরি করেছেন বিখ্যাত ব্যাংক ওয়াল স্ট্রিটে, ছিলেন ব্যবসায়ীও। শান প্লিজ্যান্টস নামের এমন একজন ব্যক্তি এখন গৃহহীন!

মার্কিন গণমাধ্যমে শানের এমন পরিণতি আলোচনার ঝড় তুলেছে। সিএনএন জানিয়েছে, ১০ বছর আগের কিছু ঘটনায় তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। লস অ্যাঞ্জেলেসের কোরিটাউন সেকশনের ফুটপাতে তার বসবাস।

অনেকেই তাকে বলেছেন, তার মতো স্মার্ট এবং সক্ষম ব্যক্তির এখানে এভাবে থাকা উচিত নয়। কিন্তু শান সেটি মানতে চান না। তার বক্তব্য, ‘আমার তো এখানেই থাকা উচিত। ভুল যা তা তো আমিই করেছি।’

লস অ্যাঞ্জেলেসের গৃহহীন মানুষের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরে সোচ্চার। দারিদ্র্য ঠেকাতে না পারার কারণে সেখানকার প্রশাসনকে তিনি দুষছেন। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এসব মানুষকে তার প্রশাসন সহায়তা করবে। ইতিমধ্যে সেখানে তিনি কর্মীদের পাঠিয়েছেন। জানা গেছে, এই রাজ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ গৃহহীন!

শানের ছোট ভাই মিশেল জানিয়েছেন, টেক্সাসে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখাপড়ার প্রতি দারুণ আগ্রহী ছিলেন। মা ছিলেন শিক্ষিকা। বাবা বিমান বাহিনীতে চাকরি করতেন।

ইয়েলে ভর্তি হয়ে বেশ কয়েকটি স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। তা দিয়েই চলেছে তার শিক্ষাজীবন।

অর্থনীতির এই শিক্ষার্থী চাকরি নেন ওয়াল স্ট্রিটে। এক সময় চলে যান ক্যালিফোর্নিয়ায়। হলিউড ঘিরে তার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে ফটোগ্রাফি শুরু করেন। ফিল্মমেকিংয়ের একটি কোম্পানিও দাঁড় করান।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি যখন ডিভিডি ব্যবসার প্রসার ঘটল, তখন শানের কোম্পানি অ্যাডাল্ট ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দেয়। কয়েক বছরের মধ্যে তাদের ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে। লজ অ্যাঞ্জেলেসে চোখ ধাঁধানো বাড়ি কিনে ফেলেন শান।

কিন্তু সহপ্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে ঝামেলার কারণে তার প্রতিষ্ঠানের আয় কমে যায়। একটা সময় পুরো আয় বন্ধ হয়ে যায়।

ওই সময় ক্যানসারে তার মা মারা যায়। এই মৃত্যু মানসিক এবং শারীরিকভাবে শানকে বিপর্যস্ত করে। একটা সময় এখান থেকে সেখানে থাকতে শুরু করেন। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে বিক্রি করতে থাকেন সম্পত্তি।

ওই সময় ব্যাক-পেইন থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ওষুধ নিতে হতো তাকে। সেখান থেকে ড্রাগ নেওয়া শুরু করেন। সেই শুরুতে ভেসে আসে তার জীবনের ‘শেষ’।