দলকে ঝোড়ো শুরু এনে দিলেন লিটন দাস। পরে ঝোড়ো ফিফটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। মাঝে মুশফিকুর রহিমও রান পেলেন। এই তিনের ব্যাটে ভর করে জিম্বাবুয়েকে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে টাইগাররা।
বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং পায় স্বাগতিকরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের পুঁজি গড়ে সাকিব আল হাসানের দল।
সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে। লিটন ৩৮ ও মুশফিকুর রহিম ৩২ রান করেন। সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে। লিটন ৩৮ ও মুশফিকুর রহিম ৩২ রান করেন। বাংলাদেশের স্কোরটা অবশ্য আরো বড় হতে পারত। ১৫ ওভার শেষে টাইগারদের স্কোর ছিল ১৩৪/৩। অর্থাৎ শেষ ৫ ওভারে ৪ উইকেটে হারিয়ে স্বাগতিকেরা তুলতে পেরেছে মাত্র ৪১।
আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ হলেও ভালো শুরুর ইঙ্গিত ছিল লিটন দাসের ব্যাটে। শুরুতেই ঝড় তোলেন এই ডানহাতি। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথম ৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৩২ রান যোগ করে টাইগাররা। যার ৩০ রানই ছিল লিটনের। ১৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় সেই ৩০ রান করেন এই ওপেনার।
আরেক প্রান্তে অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্তর অবদান তখন মাত্র ২। অবশ্য তখন পর্যন্ত মাত্র ৩ বল খেলতে পেরেছিলেন তিনি। পরে হাত খুলে খেলতে গিয়ে ৯ বলে ১১ রান করে ফিরেছেন শান্ত। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে কাইল জার্ভিসের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হন শান্ত।
এমপোফুর করা পরের ওভারে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ হন লিটন। ২২ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রান করেন তিনি। অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে সাকিব ফিরে যান। ৯ বলে ১ চারে ১০ রান করে রায়ান বার্লের বলে উইলিয়ামসকে ক্যাচ দেন সাকিব। তাতে ভালো শুরুর পরও হঠাৎ চাপ জেঁকে বসে।
এরপরই মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর জুটি। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৭৮ রান। যা দলকে দেয় বড় রানের ভিত। ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে মুশফিক ফেরেন ব্যক্তিগত ৩২ রান করে। টিনোটেন্ডা মাতুমবদজির শিকার হওয়ার আগে ২৬ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩২ রান করেন মুশফিক।
এরপর উইকেটে আসেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচের জয়ের নায়ক আফিফ হোসেন ধ্রুব। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ১৬ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি তিনি। ১৯তম ওভারে ব্যক্তিগত ৭ রানে এমপোফুর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন আফিফ।
মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত জার্ভিসের করা ইনিংসের শেষ ওভারে থামেন। ওভারের তৃতীয় বলে উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ৪১ বলে ৫ ছক্কা ও ১ চারে ৬২ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। পরের বলে মোসাদ্দেক ফেরেন ব্যক্তিগত ২ রানে।
শেষ দুই বল মোকাবিলা করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১ চারে নেন ৬ রান। অভিষিক্ত আমিনুল ইসলাম স্ট্রাইকই পাননি। শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন কাইল জার্ভিস। ২ উইকেট নেন এমপোফু।
সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ উইকেটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরেছে ২৫ রানে। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতির এই আসরে ঢাকায় প্রথম পর্বে তিনটি দলই খেলেছে ২টি করে ম্যাচ।
আফগানিস্তান নিজেদের দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে। বাংলাদেশের একটিতে জয়, অন্যটিতে হার। জিম্বাবুয়ে হেরেছে দুই ম্যাচেই। এ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেলেই জিম্বাবুয়ের বিদায় নিশ্চিত হবে। আর ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের।