ববি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকের সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ও পরিবহন শ্রমিকরা পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন। এ সময় অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয় ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

আহতরা হলেন- কাউন্টার ক্লার্ক সালাম দেওয়ান, বাস কন্ডাক্টর শাহীন ও পরিবহন শ্রমিক আল-মামুন।

এই ঘটনার পর সন্ধ্যা আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। অপর দিকে বৃহস্পতিবার ধর্মঘটে ডাক দেয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী সভাপতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা আহমেদ সিফাত জানান, কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে বাসের ড্রাইভার ও কর্মচারীরা খারাপ ব‍্যবহার করে। ঘটনাটি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে আমি তার প্রতিবাদ করি। কিন্তু তারা আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব‍্যবহার করে এবং আমাকে বাস মালিক সমিতির অফিসে নিয়ে যায়। আমার বন্ধু ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পেরে রূপাতলী এসে ঘটনায় প্রতিবাদ জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ফজলুল হক রাজিব জানান, বিকেলে জানতে পারি বাসের ড্রাইভার ও কর্মচারীরা কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে খারাপ ব‍্যবহার করে এবং ঘটনার প্রতিবাদ করায় আহমেদ সিফাতের সঙ্গেও খুব খারাপ ব‍্যবহার করে । ঘটনাটি শুনে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে রূপাতলী এসে এ ঘটনায় প্রতিবাদ করি।

অন্যদিকে  পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী সভাপতি রফিকুল ইসলাম মানিক জানান, রুপাতলি গোলচত্বর মোড়ে গাড়ি চলাচল করতে সমস্যা হওয়ায় সেখানে অটো গাড়ি দাঁড়ানো নিষেধ করে দিয়েছে ট্রাফিক ডিসি। আমাদের কয়েকজন লোক মোড়ে দাঁড়ানো অটোগুলোকে রাস্তার মোড় থেকে অন্য জায়গায় পার্কিং করতে বলেন। তখন ওই গাড়ির মধ্যে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা আহমেদ সিফাত কথা-কাটাকাটি করেন এবং আমাকে ফোন করেন। একপর্যায়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে সবাইকে নিয়ে মালিক সমিতির অফিসে যাই। অফিসে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী অতর্কিত হামলা করে। গুরুতর অসুস্থ তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।