‘কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে এখন আর আপনারা চিনতে পারবেন না। কারাগারে যাওয়ার আগে তিনি যেমন ছিলেন এখন তেমন আর নেই। তার ওজন অনেক কমে যাওয়ায় অনেক শুকিয়ে গেছেন তিনি।’ শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার এক স্বজন।
তিনি আরও জানান, ‘হাসপাতালের ছোট্ট একটা রুমে তাকে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি হাঁটাহাঁটি করতে পারেন না। বিছানা অথবা চেয়ারে বসে থাকতে হয়। এ কারণে ওষুধ খাওয়ার পরও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। পায়ের ব্যথা কমেনি। কারাগারে গেলেন হেঁটে। অথচ এখন হাটতে পারছেন না। হুইল চেয়ারে করে তাকে এদিকওদিক নিতে হয়।’
এর আগে বিকেল তিনটায় রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তার স্বজনরা। দেড় ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে সাড়ে চারটায় তারা বেরিয়ে আসেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তার বড় বোন বেগম সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘বেগম জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। খালেদা জিয়া উঠে দাঁড়াতে পারেন না, তার সারা শরীরে ব্যথা। এমনকি মুখে তুলে খেতেও পারেন না।’
সেলিমা ইসলাম ছাড়াও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রীর বড় বোন শাহীনা জামান বিন্দু, ছোট ভাই সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার প্রমুখ।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেগম জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল গত ৩০ আগস্ট। এরপর গত ২০দিন যাবৎ কারা কর্তৃপক্ষ স্বজনদের সাক্ষাতের অনুমতি দিচ্ছিল না।
গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে তিনি নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে চলতি বছরের ১ এপ্রিল তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়।