মায়ের ঝুলন্ত লাশ দেখে ছেলের আত্মহত্যা

মা অভিমানে আত্মহত্যা করেছে। ছেলে সেই দৃশ্য দেখে সহ্য করতে না পেরে সে-ও বেছে নিল মৃত্যুর পথ!

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরে জাতীয় বিদ্যালয় দ্বিতীয় লেনে। পুলিশ জানায়, মৃতেরা হলেন মায়ারানি হালদার (৫৫) এবং নিরঞ্জন হালদার (২৮)।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় জাতীয় বিদ্যালয়ের (বালক) মিড-ডে মিল রান্নায় যুক্ত মায়া এদিন স্কুলে যাননি। বাড়ির পাশেই স্কুল। দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকে খোঁজ নিতে এসে লোকজন দেখেন, তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। টিনের দরজার ফাঁক দিয়ে তার ঝুলন্ত দেহ নজরে আসে। ওই সময়ে পাশের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন মায়ারানির ছোট ছেলে নিরঞ্জন। মোটরবাইক মেরামতির ছোট একটি গ্যারেজ আছে তার। হইচই শুনে তিনি বেরিয়ে আসেন।

এর পর তিনি কোথায় গেলেন, কেউ খেয়াল করেনি। বেশ কিছুক্ষণ পরে যখন তার খোঁজ পড়ে, দেখা যায় তার ঘরের দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ভেঙে ফেলা হয় দরজা। দেখা যায়, সিলিং ফ্যানে ঝুলছে নিথর দেহ!

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মায়ারানির তিন ছেলে। এক বাড়িতে থাকলেও সংসার আলাদা। মায়া রাঁধুনির কাজে করে ভালই আয় করতেন। বছর চারেক আগে নিরঞ্জনের বিয়ে হয় দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের মেয়ে বাসনার সঙ্গে। মাস তিনেক যাবৎ তাদের মধ্যে অশান্তি চলছিল। নিরঞ্জনের সঙ্গে বাসনা ও মায়ারানির বনিবনা হচ্ছিল না। কিছু দিন আগে বাসনা বাপের বাড়ি চলে যান। মায়াও তার সঙ্গে গিয়েছিলেন। সেখানে দিন সাতেক থাকার পরে তিনি ফিরে আসেন। কিন্তু বাসনা ফেরেননি। এই সব নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে একটা টানাপোড়েন চলছিল।