বশেমুরবিপ্রবির ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবির) উদ্ভূত পরিস্থিতি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই ঘটনা অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

আন্দোলনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী রবিবার দেশ রূপান্তরকে অভিযোগ করে বলেন, ‘উপাচার্য ড. খোন্দকার মো. নাসির উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে তিনি কোটি কোটি অর্থ সরিয়েছেন।  দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আসছেন।  সম্প্রতি একজন ছাত্রীর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন।  তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করেন।  এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।  কিন্তু গত ২১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছেন।  অনেকেই আহত হয়েছেন।  আমরা এর বিচার দাবি করে আন্দোলন করে যাচ্ছি।  তাকে অপসারণ অথবা তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। 

এদিকে গত শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বাশেমরবিপ্রবির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. শাহগীর আলম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারে তথ্য অনুসন্ধান করছি। তবে এখনো কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। কমিটি গঠনের পরিকল্পনা আছে’।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগতদের হামলার আদেশ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এসেছে বলে অভিযোগ করছেন সদ্য পদত্যাগ করা সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ুন কবির। যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে সেখানে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন বলে রবিবার দাবি করেন তিনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কর্মসূচি পালনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে তাদের দাবির প্রতি এই সংহতি প্রকাশ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও অনশনের তৃতীয় দিন শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে প্রশাসন। একই সঙ্গে সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে গেলে বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের বাইরে সোবহান সড়কে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় উপাচার্যপন্থী শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা। এতে সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।