বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার আদেশ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এসেছে বলে অভিযোগ করছেন পদত্যাগী সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ুন কবির।
যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে সেখানে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন বলে রবিবার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন তিনি।
মো. হুমায়ুন কবির বলেন, 'উপাচার্যের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যাতে ভেতরে আসতে না পারে সেজন্য প্রশাসন থেকে সিদ্ধান্ত হয় যে যারাই ভেতরে আসবে, তাদের যে কোন মূল্যে ফেরাতে হবে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে দা, লাঠি, যত ধরনের দেশি অস্ত্র আছে সেগুলো দিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেরে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।'
তিনি আরো বলেন, 'আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেই ছিলাম। যখন বৈঠকটা হয় তখন আমি তার প্রতিবাদ করেছি যে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। তারা আমার কথা মানে নাই। এই কারণে আমি পদত্যাগ করেছি'।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. খোন্দকার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আমার সন্তানতুল্য তাদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছি। তাদের ওপর হামলার প্রশ্নই ওঠে না। এ ধরণের কোনো বৈঠক হয়নি। এ ব্যাপারে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি'।
১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও দ্যা ডেইলি সানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের মুখে বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিসি পতনের আন্দোলন শুরু করে এবং শনিবার দুপুরে আন্দোলনে যোগ দিতে আসা শিক্ষার্থীদের উপর পাঁচস্থানে হামলার ঘটনা ঘটে।