গুলশানের ৩ স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, নারীসহ আটক ১৯

রাজধানীর গুলশানে নাভানা টাওয়ারের তিনটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার রাত ৮টার দিকে গুলশান-১ নম্বর মোড়ে নাভানা টাওয়ারের ১৯ তলায় লাইফস্টাইল হেলথ ক্লাব স্পা অ্যান্ড সেলুন, ২০ তলায় রেসিডেন্স সেলুন টু অ্যান্ড স্পা এবং ২১ তলায় ম্যানগো স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ১৬ নারী স্পা কর্মী ও ৩ ক্লায়েন্ট।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিউটি পারলারের অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে স্পা চালাচ্ছিল। স্পার আড়ালে গ্রাহকদের সঙ্গে আপত্তিকর কার্যকলাপ চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে আটককৃতদের কাছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মালিক ও নিয়ন্ত্রকদেরও খোঁজা হবে।

তবে আটক নারীকর্মীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, স্পা সেন্টারে কোনো আপত্তিকর কাজ হতো না। শুধু ম্যাসাজ, ফেসিয়াল, বডি স্পা করা হতো। এখানে নারী-পুরুষ উভয়ই স্পা করতে আসেন। নারীদের জন্য নারী ও পুরুষদের জন্য পুরুষ কর্মী রয়েছে সেন্টারে।

আটক পুরুষ ক্লায়েন্টরা জানান, এখানে আপত্তি কাজ হয় এমন তাদের জানা ছিল না। সেলুন ভেবে তারা এসেছিলেন।   

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী গতকাল রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা গুলশান-১-এর নাভানা টাওয়ারে অভিযানটি পরিচালনা করেছি। তারা বিউটি পারলারের অনুমোদন নিয়ে ভবনের ৮, ১৯ ও ২০ তলায় অবৈধ স্পা চালাচ্ছিল। এই তিনটি সেন্টারে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে ১৬ নারী ও ৩ পুরুষকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, এখানে আগত গ্রাহকদের সঙ্গে স্পার আড়ালে আপত্তিকর কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের থানায় পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা যাচাই করছি এসব ব্যবসার সঙ্গে কারা কারা জড়িত। এখানকার মালিকপক্ষ কারা, কারা এটি পরিচালনা করত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

অভিযানের পর ম্যানগো স্পা সেন্টারের ম্যানেজার মো. সুমন গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্পা সেন্টারটির অনুমতি ছিল কি না আমার জানা নেই। এ বিষয়ে মালিক বলতে পারবেন।’ তবে মালিকের নাম জানাতে রাজি হননি তিনি।