কাশ্মীরের বন্দি শিশুরা

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করতে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সিদ্ধান্তে বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পরই কাশ্মীরকে গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এছাড়া জারি করা হয় কারফিউ। এই কারফিউয়ের মাঝেই বিপুল সংখ্যক কাশ্মীরিকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় বাহিনী।

এর মধ্যে অনেক কাশ্মীরি শিশুকেও বন্দি করে রাখা হয়েছে। ওই শিশুদের পরিবার গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তায়। সম্প্রতি বিবিসি এমন কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শিশুদের বন্দিত্ব ও বাস্তবিক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে।

বিবিসি একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে যে পরিবারের বাবা ও সন্তান বন্দিশিবিরে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাবা বলেন, “শিবিরে আমাদের পেটাত আর বলত, ‘তুই আমাদের দিকে পাথর ছুড়ে মারিস, তুই স্বাধীনতা চাস। কেমন স্বাধীনতা চাস?’। চোখের সামনে আমার সন্তানকে পেটানো হচ্ছে, এই দৃশ্য দেখার চেয়ে আমার মৃত্যু ভালো ছিল। আমার কিছু করার ছিল না। কারণ আমি ক্ষমতাহীন।”

বিবিসি এমন ১৭টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেয়, যে পরিবারগুলোর সবাই ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের সন্তানদের বন্দি করে রাখার অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় আইনজীবী মীর উরফি বলেন, ‘মানুষদের গ্রেপ্তার করে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। আইন সহায়তা পাচ্ছেন না তারা। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারছে না। অথচ এটা প্রত্যেক বন্দির মৌলিক মানবাধিকার।’

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, তার ১৪ বছরের সন্তানকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘মাঝরাতে তারা (ভারতীয় সেনা) আমাদের বাড়িতে আসে। আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তারা আমার স্বামীকে ফেরত দেওয়ার বদলে সন্তানকে চায়।’

ওই নারীর স্বামী বলেন, আমার সন্তানকে বন্দিশিবিরে দেখতে যাই। আমাকে দেখেই ও বলতে শুরু করে, ‘আমাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে? আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। আমি কোনো পাথরও ছুড়িনি।’

এ বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে বন্দিদের পরিচয় দিলে এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা জানায় জম্মু-কাশ্মীরে মোতায়েনকৃত ভারতীয় সেনা কমান্ড।