ভারতে গুজরাটে নর্মদা নদীর ওপর বিতর্কিত জলবিদ্যুৎ বাঁধের পানিতে আরও শতাধিক গ্রাম তলিয়ে গেছে।
আল জাজিরা জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জন্মদিনের উদ্যাপনের খবর যখন পুরো দেশের সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম তখন নর্মদা তীরের দেড়শ'রও বেশি গ্রাম তলিয়ে গেছে বাঁধের উপচে পড়া পানিতে।
২০১৭ সালে ৬৭তম জন্মদিনে সরদার সরোবর বাঁধ (এসএসডি) নামে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী বাঁধটি উদ্বোধন করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর থেকে বাঁধের পানি গ্রাস করে ফেলেছে একের পর এক জনপদ।
গুজরাটের পার্শ্ববর্তী রাজ্য মধ্যপ্রদেশের বারওয়ানি শহরের বিশাল এক বিক্ষোভ আয়োজন করে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা।
নারী শিশুসহ দুই হাজারেরও বেশি মানুষ বারওয়ানি শহরে এই বিক্ষোভ করে। ট্রাক, ট্র্যাক্টর, মোটরবাইকে চড়ে বিশাল মিছিল বের করে ভুক্তভোগীরা। মোদির জন্মদিন উদ্যাপনকে ব্যঙ্গ করে তারা প্লাকার্ড ও পোস্টার পরিদর্শন করে। যেখানে স্লোগান লেখা ছিল, ‘আমার জন্মদিন আর তোমাদের মৃত্যুদিন।’
বাঁধ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি পানির স্তর সর্বোচ্চ ১৩৮.৬৮ মিটার উচ্চতায় উন্নীত করলে কয়েকটি রাজ্যের বিশাল অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। এত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭৮টি গ্রাম।
১৯৬১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু যখন এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর করেন তখন থেকেই এটি নিয়ে বিতর্কের শুরু হয়। বিতর্কের কারণে ১৯৮৭ সালের আগে এর নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি।
সর্দার সরোবর ড্যামে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট - এই তিন রাজ্যের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই জল একটি ক্যানাল নেটওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে গুজরাটের প্রায় নয় হাজার গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হবে, আর তাতে সেচের জল পাবে ১৮ লাখ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি।
তবে এই বাঁধের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা ভারতের পরিবেশ কর্মীরা সরকারের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। এই বাঁধ লাখ লাখ গ্রামবাসীকে আশ্রয়হীন করেছে বলেই তাদের দাবি।
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের নেতাদের মতে, এই প্রকল্পের ফলে বাস্তুচ্যুত মধ্যপ্রদেশের ১৯০টি গ্রামের চল্লিশ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতাতেই আনা হয়নি। যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো গড়া হয়েছে সেগুলোও বাসের অযোগ্য।
ইতিমধ্যে সর্দার সরোবর ড্যাম বহু গ্রাম-শহর-জনপদকেই চিরতরে দেশের মানচিত্র থেকে মুছে দিয়েছে বলে পরিবেশবাদীরা বলেছেন।