পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিক তালিকা-এনআরসি আতঙ্কে একদিনে তিনজন আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আত্মহত্যাকারীর মধ্যে একজন নারীও আছেন বলে জানা গেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, এনআরসি আতঙ্কে জলপাইগুড়িতে দুই ব্যক্তি এবং কোচবিহারে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। নাগরিকত্ব প্রমাণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে ফেলায় মানসিক চাপে তারা আত্মাহুতির পথ বেছে নেন।
আসামে এনআরসি থেকে ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের মধ্যেও। এ নিয়ে গত চার দিনে অন্তত ১১ জন আত্মহত্যার খবর পাওয়া গিয়েছে।
জলপাইগুড়ির আত্মহত্যাকারী দুই বাসিন্দা হচ্ছে ধুপগুড়ির শ্যামল রায় এবং সদর ব্লকের বাহাদুর এলাকার সাবের আলী। এ নিয়ে জলপাইগুড়িতে তিন ব্যক্তি আত্মহত্যা করলেন।
শ্যামল রায় গলায় গামছা ফাঁস দিয়ে এবং সাবের আলী কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গিয়েছে।
কোচবিহারের কোতোয়ালির বাসিন্দা ওই নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার পরিবারের অভিযোগ, আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডে ভিন্ন নাম হওয়ায় আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি।
রাজ্যের প্রতিটি জেলার বাসিন্দা মূলত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের তাড়া করছে এনআরসি আতঙ্ক। তালিকায় নাম না উঠলে কী হবে তা নিয়ে মানসিক চাপে আছেন তারা। এই দুশ্চিন্তায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনার মাটিয়াতে মারা গিয়েছেন একজন। অন্যদিকে নথি সংশোধনের লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু হয়েছে বালুরঘাটের এক বাসিন্দার।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতে আধার কার্ড-সহ একাধিক পরিচয়পত্র সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে মানুষ লাইন দীর্ঘ হচ্ছে।
কলকাতাতেও পৌরসভা, মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় ও স্বাস্থ্য ভবনে প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করতে লাইন দিতে দেখা গিয়েছে উদ্বিগ্ন শহরবাসীকে। যদিও কলকাতা পৌরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আশ্বস্ত করে বলেছেন, এনআরসি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগে বারবার জানিয়েছেন, এ রাজ্যে এনআরসি করতে দেওয়া হবে না।
এ দিন সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'এটা বিজেপির রাজনৈতিক প্রকল্প। তাদের জন্যই আজ এত মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। এটা শুধু জাতি, ধর্ম নয়, মানবতার প্রতি আক্রমণ।'