রাজিন-আফতাব প্রধান কোচ

এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রধান কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের দুই সাবেক ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ ও রাজিন সালেহ। আফতাবকে এই মৌসুমে চট্টগ্রাম বিভাগ এবং রাজিনকে সিলেট বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এছাড়া সাবেক পেসার ডলার মাহমুদ হয়েছেন খুলনা বিভাগের সহকারী কোচ। রাজিনের সহকারীর ভূমিকায় থাকছেন আরেক সাবেক পেসার নাজমুল হোসেন। সাবেক ফাস্ট বোলার তালহা জুবায়ের টানা তৃতীয় বছরের মতো ঢাকা মেট্রোপলিটন টিমের প্রধান কোচের ভূমিকায় থাকছেন।

আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে এই মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগ। আর ২৯ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে আফতাব-রাজিনদের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা আসছে ক্রিকেট বোর্ড থেকে।

বাংলাদেশের হয়ে ২৪টি টেস্ট ও ৪৩টি ওয়ানডে খেলা ৩৫ বছরের রাজিন গত বছর সব ধরনের খেলা থেকে অবসর নিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় লিগেও খেলেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে তৈরি করছিলেন বড় পরিসরে কোচিংয়ের দায়িত্বে নামতে। সিলেট বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়ে খুশি রাজিন অবশ্য রোমাঞ্চকে তুলে রাখছেন সামনের দিনের জন্য।

‘সিলেট বিভাগে অনেকদিন খেলেছি। কোচের সঙ্গে থেকে কাজ করেছি। এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়। গত আট-নয় বছর ধরে আমি কোচিংয়ের সঙ্গে আছি।’ গতকাল বিকেলে ফোনালাপে রাজিন বলছিলেন, ‘এখন এই দায়িত্ব পেয়ে কাজটা করে যদি কিছু দিতে পারি ক্রিকেটকে তখন নিজেকে রোমাঞ্চিত লাগবে।’ রাজিন দীর্ঘদিন ধরে সুরমা ক্রিকেট একাডেমির কোচ। ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির সঙ্গে সারা দেশে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ডিরেক্টরও তিনি।

ত্রিশে পা রাখার আগে খেলা ছেড়ে কোচিংয়ে পা রেখেছিলেন দেশের পক্ষে ১৬ টেস্ট, ৮৫ ওয়ানডে ও ১১ টি-টোয়েন্টি খেলা প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান আফতাব। এখন বয়স ৩৩। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শেষ মৌসুমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের প্রধান কোচ হয়ে সাফল্য পেয়েছেন। দল হয়েছিল রানার্স আপ। আফগানিস্তানের সঙ্গে বিসিবি একাদশের এই মাসের দুই দিনের ম্যাচে সহকারী কোচের ভূমিকায় ছিলেন। এবার বিসিবি আয়োজিত জাতীয় লিগে পেলেন বড় দায়িত্ব।

রোমাঞ্চিত আফতাব তার লক্ষ্যপূরণের পথেই আছেন। গতকাল ফোনে বলছিলেন, ‘খুব ভালো লাগছে এই কারণে যে আমি এভাবে ধাপে ধাপে এগুতে চেয়েছিলাম; ওভাবেই হচ্ছে। সবকিছু ভালো হচ্ছে বলে ভালো লাগছে।’ তরুণদের বিসিবি এমন দায়িত্ব দিয়ে তুলে আনছে বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আফতাব জানালেন তার বিশ্বাসের কথা, ‘রাজিন ভাই দায়িত্ব নিয়েছেন। ১৫/২০ দিন হলো কাজ শুরু করেছেন। আমরাও কাজ শুরু করেছি। সাবেক ক্রিকেটাররা এভাবে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সুযোগ পেলে দেখবেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে আগামী তিন বছরের মধ্যে ভালো একটা পরিবর্তন আসবে।’

৭ টেস্ট ও ৬ ওয়ানডে খেলে অকালে ক্যারিয়ারের ইতি টানতে হয়েছিল তালহাকে। আর এখন দেশের ক্রিকেটে কোচ হিসেবে নিয়মিত। তৃতীয়বারের মতো জাতীয় লিগে ঢাকা মেট্রোর প্রধান কোচ তিনি। অবশ্য ৩৩ বছরের তালহা মনে করছেন রাজিন, আফতাব, ডলারদের মতো তরুণ কোচকে বড় দায়িত্ব দেওয়ায় লাভটা দেশের ক্রিকেটেরই হবে।

‘ক্রিকেট তো এখন অনেক বদলেছে। এগিয়েছে। সিনিয়ররা প্রধান কোচ থাকলে কোনো সমস্যা নেই।’ ইতিবাচক দিক ধরে তালহা বলছিলেন, ‘কিন্তু তরুণরা প্রধান কোচ থাকলে মাঠে অনেক কাজ করা যায়। প্র্যাকটিস সেশনে, বিরতিতে কাজ করা যায়। বয়স হয়ে গেলে সেটা হয়তো সম্ভব হয় না। তরুণরা মাঠে বেশি দিতে পারে। সেটা একটা বড় ব্যাপার।’